শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

শামীম ওসমানের কন্ঠে বিএনপির সুর!

শনিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে আসছেন প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতোই আচরণ করেন তারা এমন অভিযোগও তুলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক শীর্ষ নেতা। ঠিক এমন সুরেই কথা বললেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক সভায় তিনি বলেন, ‘এখন তো দেখি সবাই আওয়ামী লীগ করে। প্রশাসনে আওয়ামী লীগ, পুলিশেও আওয়ামী লীগ। রাজনীতিতে এখন সবাই আওয়ামী লীগ। যারা জামাতের সাথে আঁতাত করে চলে তারা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হতে চায়।’

শহরের খানপুরে ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতল প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) জেলা শাখার উদ্যোগে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বাধ্যকরভাবে অনুসরণযোগ্য সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ১৯৭৯ অনুসারে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবেন না। এমনকি রাজনৈতিক কোন দলের সভা-সমাবেশেও যেতে পারেন না। নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্যও চাইতে পারেন না কোনো রাজনীতিকের সমর্থন।

এদিকে প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা তাদের সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে যে অভিযোগ প্রতিনিয়ত বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা করে যাচ্ছেন পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগই আরো জোরালো হলো ক্ষমতাসীন দলের এই এমপির বক্তব্যে। এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশ যে আওয়ামী লীগার এই বক্তব্য তো আমরা আগে থেকেই দিয়ে আসছি। তাদের উপর ভর করেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এটা যে সত্য তা সরকার দলীয় এই এমপির বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি (শামীম ওসমান) যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তো আমাদেরই বক্তব্য।’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, ‘কথায় আছে ক্ষেতের ডেলা ক্ষেতেই ভাঙ্গে। এখন হইসে সেই অবস্থা। এখন আমাদের বলা লাগে না। তারাই বলা শুরু করেছে। কোন দেশের সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে যখন ক্ষমতায় আসে তখন তো তাদের কাছ থেকে সমীহ আচরণ আশা করা ভুল। এভাবে একটি দেশের স্বাভাবিক গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া ধ্বংস করে সুখে থাকার চিন্তা করা ভুল। প্রশাসনের উপর ভর করে অগণতান্ত্রিকভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা পদে পদে এই ভুলের মাশুল দিবে।’

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উনি (শামীম ওসমান) তিন তিন বারের সাংসদ। উনি আমার চেয়েও অনেক অভিজ্ঞ ব্যক্তি। এখন উনি এটা বলছেন, জেনে শুনেই বলছেন হয়তোবা। আমি যেটা মনে করি প্রশাসন ও পুলিশ আওয়ামী লীগ হবে কেন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ঠিক আছে কিন্তু পুলিশ, প্রশাসন তো সাধারণ জনগণের কর্মচারী। প্রশাসন, পুলিশ আওয়ামী লীগ করে এটা উনি কোত্থেকে পাইলো কে জানে!’

সরকার দলীয় একজন সাংসদের এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা তো অবশ্যই। আসলে ওনার জ্ঞান গরিমা আমার থেকেও অনেক বেশি। আমি যতটুকু বুঝি, পুলিশ হচ্ছে জনগণের সেবক, তারা জনগণের কর্মচারী। আওয়ামী লীগ শাসক দল তাই তারা আওয়ামী লীগের নির্দেশ মতো কাজ করে কিন্তু তাদের আওয়ামী লীগ করতে হবে কেন? তারা জনগণের সেবা করবে।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ