রবিবার ২৬ মে, ২০১৯

শামীম ওসমানের ডেটলাইন শেষ, কি পেলো নেতাকর্মীরা

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: অনুসারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিডি, মামলা ও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের কারণে জেলা পুলিশের সাথে দ্বন্দ যখন চরমে তখন এক জরুরী কর্মীসভা ডাকেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। ওই সভায় পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান দেন উপস্থিত শামীম ওসমান অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রত্যাহারও চাওয়া হয় ওই সভায়। এক পর্যায়ে সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শামীম ওসমান নেতাকর্মীদের নিভৃত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের খোঁজ রাখেন। তিনি খোঁজ রাখেন কিনা তা আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে টের পাইয়া যাবেন।’ শামীম ওসমানের দেয়া সেই ১২ দিনের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। তবে নেতাকর্মীরা কি টের পেলো তা পরিষ্কার হয়নি। উল্টো বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট নাসিক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে প্রশাসনের সব সময় সদ্ভাব দেখা গেলেও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে ওসির জিডি, আবার ওই ওসির বদলি, শামীম ওসমান অনুসারী কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার মোবাইলের ভয়েস রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের লিজকৃত পাগলা মেরি এন্ডারসনে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৮ জন আটক ও বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার এবং মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবসায়ী নেতা তানভীর আহমেদ টিটুর নাম প্রকাশ করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। জেলা পরিষদের এক অনুষ্ঠানে খোদ শামীম ওসমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাবেক ও বর্তমান দুই কাউন্সিলরকে হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে তোলার বিষয়ে জেলা পুলিশের সমালোচনা করেছেন।

গত ১ এপ্রিল তানভীর আহমেদ টিটুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরেই অস্থির হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের নেতৃত্বে ৪৯টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিবাদের মধ্যে শহরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার সঙ্গে জলকামান ও সাঁজোয়া যানের মহড়া সাধারণদের মধ্যে আতঙ্ক অন্যদিকে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা তাকিয়ে ছিলেন নেতার দিকে।

অবশেষে ৬ এপ্রিল বেলা ৩টায় ইসদাইরে অবস্থিত বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও’ ব্যানারে কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমান। এই সময় তিনি নেতা কর্মীদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের খোঁজ রাখেন। তিনি খোঁজ রাখেন কিনা তা আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে টের পাইয়া যাবেন।’

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এরপরও যদি খেলা হয়,৬ ঘন্টার নোটিশ দেবো। ২৪ ঘন্টা না ৬ ঘন্টা। খেলা হবেনা ইনশাল্লাহ।’

এদিকে এই সভার পর শামীম ওসমান ও এসপি হারুনের দ্বন্দ নিয়ে পুরো জেলায় আলোচনা শুরু হয়। পরে ওমরা থেকে ফিরে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে বৈঠকে বসেন শামীম ওসমানের বড় ভাই ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা যতই বলেন না কেন বরফ জমা থাকবে না। বরফ জমার কোন ব্যবস্থা থাকবে না।’ তিনি এইসময় আরও বলেন, ‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’

এ সময় এসপি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কোন এমপির সাথে আমার দ্বিমত নেই।’

এই দিকে এই সভার পর একাধিক গণমাধ্যমে খবর আসে পুলিশ প্রশাসন জেলার পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। কোথায়, কোন তারিখে, কোন অভিযানে, কারা ধরা পড়েছেন, কারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন তার বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে পুলিশ প্রশাসন শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ১৬ দফা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছে।

এদিকে গত ১৪ এপ্রিল নববর্ষ উপলক্ষে এসপি হারুনের নিমন্ত্রণে তাঁর বাসভনে আসেন সাংসদ শামীম ওসমান। ওইদিন একসাথে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন তারা। এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় শহরজুড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ‘বরফ’ গলেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু শামীম ওসমানের দেয়া ডেটলাইনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ নাসিক ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। বাবুর গ্রেফতারে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে শহরে। শহরজুড়ে ফের আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ