সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

শান্ত নগরী, নেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, নেই ছাত্রলীগ

বুধবার, ৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: মাঠ এখন ফাঁকা। নেই ছাত্রলীগ কিংবা আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য বেশ কয়েকদিন যাবত উত্তপ্ত ছিল শহর। অবরোধ, বিক্ষোভ, ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে গত ৭দিন শহরেরর রাস্তায় দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। দিন দিন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমতে থাকলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন করতে দেখা গেছে গুটি কয়েক শিক্ষার্থীদের। তবে বুধবার (৮ আগস্ট) তারা একেবারেই নেই। অন্যদিকে গত তিন দিন ছাত্রলীগ শহীদ মিনারে একটানা শোকসভা করলেও বুধবার তাদের দেখা যায়নি। মোট কথা, রাস্তায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কিংবা ছাত্রলীগ না থাকাতে শান্ত নারায়ণগঞ্জ।

বুধবার (৮ আগস্ট) বিগত দিন থেকে নগরীর চিত্র ছিল পুরো ভিন্ন। ছিল না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো কর্মসূচী। অন্যদিকে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও ছিল না ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী। আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তারা আন্দোলন স্থগিত করেছেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা কিছু বলতে রাজি হননি।

নারায়ণগঞ্জের চলমান ছাত্র আন্দোলনে ভাটা পড়েছে রবিবার থেকে। ওইদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারে জড়ো হবার কথা থাকলেও শহীদ মিনার দখল করে ছিল ছাত্রলীগ। ১৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ব্যানারে দিন ব্যাপী শোকসভা পালন করেছে তারা। ওইদিন অনেক শিক্ষার্থী শহীদ মিনারে এসে ছাত্রলীগের অবস্থানে ভীত হয়ে আন্দোলন না করেই বাড়ি ফিরেছিল। এরপর কিছু শিক্ষার্থী মিলে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মিছিল করলেও সংখ্যা ছিল পূর্বের তুলনায় খুবই কম। এরপর থেকেই অজানা এক আতঙ্কে কমতে থাকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আন্দোলনের প্রথম তিনদিন নারায়ণগঞ্জের হাজারো শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখন তা আর নেই। প্রথম দিকে যেখানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল সহ¯্রাধিক সেখানে বুধবার এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িছে শূন্যে।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় প্রাণ হারায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী। আহত হয় আরো ১২ জন শিক্ষার্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৯ দফা উত্থাপন করে আন্দোলন করে স্কুল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষর্থীদের মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় এই আন্দোলন। ১ ও ২ আগস্ট দুই দিন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শহরের সকল যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীরা। ৩ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন এবং প্রশাসনকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ২ দিনের আল্টিমেটাম দেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শামীম ওসমানের কথায় আন্দোলন স্থগিত করলেও ওইদিন বিকেলেই আরেকটি অংশ রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যায়। ওইদিন বন্ধের দিন হওয়াতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা পূর্বের থেকে কম দেখা যায়।

এদিকে পরের দিন ৪ আগস্ট (শনিবার) শিক্ষার্থীরা ফের রাস্তায় নামে। বিগত দিনের মতো ওইদিন শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। এবং বিভিন্ন রকম শ্লোগানের সাথে আন্দোলন চালিয়ে যান। শুক্রবারের তুলনায় শনিবার শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল বেশি।

এরপর ৫ আগস্ট (রবিবার) শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ হওয়ার স্থান চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ৯টা থেকে ১৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের মৃত্যু বর্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়, চলে সারা দিন ব্যাপী। সেদিন শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠান দেখে শিক্ষার্থীরা তেমনভাবে সংঘবদ্ধ হতে পরেনি। অনেক শিক্ষার্থীরা আবার ফিরে যান। শেষে বেলা সাড়ে ১১ শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে তারা সংঘবদ্ধ হয়। তখন তারা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মিছিল কর্মসূচী পালন করেন। তবে তখন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন করতে নিষেধ করেছেন।

৬ আগস্ট (সোমবার) ফের চাষাড়া শহীদ মিনারে ১২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ব্যানারে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষাথীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন পালন করেন। ৬ আগস্ট মানববন্ধনের শিক্ষাথীরা সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৪০ জনে। তবে শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলন কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। কারো চোখ রাঙানিকে তারা ভয় করে না। এরপর ৭ আগস্ট (মঙ্গলবার) আন্দোরনের সপ্তম দিন হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থীই আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে।

৮ আগস্ট (বুধবার) বিগত দিন থেকে নগরীর চিত্র ছিল পুরো ভিন্ন। আজ ছিল না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো কর্মসূচী। অন্যদিকে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছিল পুরো ফাকা। মিনারে ছিল কোনো ছাত্রলীগের কর্মী বা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ