সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

শহরের বুকে অবৈধ পশুর হাট

বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন কারোরই কোন অনুমোদন নেই। কোন দরপত্রও আহ্বান করা হয়নি কোরবানির এই পশুর হাটটির জন্য। তবুও গত এক সপ্তাহ পূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বসেছে অবৈধ পশুর হাট। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন। কেবল একটি আবেদনের কাগজের জেরেই চলছে অবৈধ হাটটি।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া চত্ত্বর থেকে মাত্র আড়াইশ’ গজ দূরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থিত আর্মি মার্কেট মাঠ। সামরিক বাহিনীর কর্তৃতাধীন এই মাঠে সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ এই পশুর হাট। গত ৮ দিন যাবৎ কোনো অনুমতি বা ইজারা ছাড়া হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। প্রথম দিকে শুধু মাঠটিকে ঘিরে হাটটি বসলেও বর্তমানে উল্লেখিত মাঠ, আর্মি মার্কেট সংলগ্ন কাঁচাবাজার ও পার্শ্ববর্তী সামরিক বাহিনীর একটি খালি জায়গাও দখল করে নিয়েছে। যেখানে বর্তমানে চার শতাধিক কোরবানির পশু বিক্রির জন্য ওঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট আর্মি মার্কেট মাঠে হাট বসা শুরু হয়। ৪ আগস্ট অস্থায়ী হাটটিতে কোরবানির পশু তোলা শুরু হয়। সামরিক বাহিনীই হাটের ইজারা দিয়েছে বলে দাবি হাট কর্তৃপক্ষের। নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবের শুটিং সম্পাদক কাজী ইমরুল কায়েস, তার সহযোগী ও ব্যবসায়ী কিছু নেতারা মিলে হাটটি বসিয়েছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে হাটের প্রবেশ মুখেই রয়েছে শীতল, বন্ধন, উৎসব, হিমাচল, বিআরটিসি, শ্যামলী, বন্ধুসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস কাউন্টার। এই পরিবহনগুলো নারায়ণগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করে। শহরের মধ্যে বসা হাটটি জমতে শুরু করলে গরু আনা নেওয়া হবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়ে যার ফলে নিত্যদিনের যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে। যার ফলে ভোগান্তি পড়তে হবে সাধারণ মানুষের। ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রাফিক পুলিশ।

অবৈধ এ হাটের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা বলেন, ‘হাট বাজার নীতিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের অনুমতিবিহীন পশুর হাট অবশ্যই অবৈধ। সামরিক বাহিনী হাটের ইজারা দিয়েছে এতে কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা সামরিক বাহিনীর হাটের ইজারা দেবার কোনো অথরিটি নেই। তবে হাটটির অনুমতির জন্য একটি আবেদন আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা জেলা পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ, সদর ইউএনও, ডিবিসহ যাদের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজন তাদের চিঠি পাঠিয়েছি। এ ছাড়া এই আবেদনটি আমরা নাসিকের কাছে হস্তান্তর করছি। এখন এ বিষয়ে যা করার নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী করবেন।’

এ বিষয়ে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এহতেশামুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো জেলা প্রশাসন থেকে কোনো চিঠি বা আবেদন পাইনি। আসলে ব্যবস্থা নেবো।’

হাট, বাজার নীতিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন থেকে দরপত্র ক্রয় করে আবেদন করবেন ইজারা গ্রহণে ইচ্ছুকরা। এরপর আবেদনকারীদের হাটের ইজারার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত অর্থের উপর ভিত্তি করে ইজারা দেওয়া হবে। তবে চাষাঢ়া আর্মি মার্কেট মাঠে আগে থেকেই অবৈধভাবে হাটটি চলছে। এখন জেলা প্রশাসনের সম্মতি পেলে নাসিক উক্ত মাঠের অস্থায়ী হাট উচ্ছেদ করে, হাটের জন্য সবার আবেদন গ্রহন করবে নাকি যারা হাট বসিয়েছে তাদের সরাসরি ইজারা দেবে।

এমন প্রশ্নের উত্তরে এহতেশামুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো অথরাইজড কাগজ পাইনি। জেলা প্রশাসনের সম্মতি পাবার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে এ বিষয়ে ইমরুল কায়েসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাটটি বৈধ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি হাটটির জন্য আবেদন করেছি। আমার মতে আমার হাটটি বৈধ। সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসনের কোন অনুমোদন ছাড়াই হাটের বৈধতা দাবি করার যুক্তি কি জিজ্ঞেস করলে এ বিষয়ে কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ