সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২০

শরীয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের সমাবেশ

সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা বাতিল ও বাউল শরীয়ত সরকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সংহতি ঘোষ রমার সভাপতিত্বে ও ইবনে সানির সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন, সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী সংকর রায়, প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা নজরুল ইসলাম মিন্টু, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণসংগীত শিল্পী সুজয় রায় চৌধুরী বিকু, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া আক্তার সেতু ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ বনিক প্রমুখ।

হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘যে বক্তব্যের কারণে শরীয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়টি দেশবাসী কেউ কেউ আংশিকই জানেন। যারা আংশিক জানেন তারা মনে করতে পারেন শরীয়ত সরকার ইসলাম বিরুধী কথা বলেছেন। আমার অনুরোধ আপনারা ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখবেন। কেননা তার প্রতিটি বক্তব্যে শুধু আল্লাহ রসূলের কথা বলেছেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেছেন, কোরআনে কোথাও যদি গান হারাম প্রমাণ করতে পারে তাহলে তাকে ৫০ লাখ টাকা দেবেন এবং গান ছেড়ে দেবেন। যারা জঙ্গি গোষ্ঠির প্ররোচনায় শরীত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করেছেন, আপনারা ইসলামকে অবমাননা করেছেন, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’

ভবাণী সংকর রায়, ‘শরীয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অতন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের মুক্ত চর্চা, আমাদের মুক্ত মানসিকতার চর্চা, কথা বলার চর্চা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যদি তাই না হয় তাহলে, কে এই শরীয়ত বয়াতি। তারা এই চর্চা করে। বাউল সংগীতে অসম্প্রদায়িক চেতনা বিদ্যমান ও মুক্ত চর্চার জায়গা। এটাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য একটি শ্রেণি অত্যন্ত সুকৌশলে মাথাচারা দিয়ে উঠছে। যাদের পৃষ্ঠপোশকতা করছে আমাদের সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘শরীয়ত বয়াতির মত এক সময় রমণায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চিরতরে বন্ধ করে দেয়ার জন্য বোমা হামলা করা হয়েছিল। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসব আমাদের শিল্প সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেয়ার আলামত। সরকার উচ্চস্বরে ডিজিটাল বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেছে অন্যদিকে বলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মুক্তচিন্তা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।’

বিমলকান্তি বলেন, ‘এ কালো আইন সাম্প্রদায়িক সৃষ্টি করেছে। ইসলামে মারফতিদের লোকের সংখ্যাই বেশি কিন্তু শরীয়ত বয়াতির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

নজরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘ধর্ম বিরুধী বক্তব্য কিনা তা আলোচনার মধ্য দিয়েই শেষ করা যেত কিন্তু কালা আইন প্রয়োগ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হল। কারো মতাদর্শ গ্রহণ ও বর্জনের অধিকার আমাদের আছে কিন্তু এর জন্য কাউকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করা যৌক্তিক নয়।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ