বুধবার ২২ মে, ২০১৯

নবীগঞ্জ ঘাট

লাভজনক হলেও রহস্যজনক কারণে বন্ধ ৩টি ফেরি

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ফেরিসার্ভিস। বন্দরবাসীর যাতায়াতে কষ্ট লাগব করার জন্য এই সার্ভিস চালু করা হয়েছে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ৪টি ফেরি দেয়া হয়েছে এখানে। লাভজনক হলেও রহস্যজনক কারণে চালানো হচ্ছে মাত্র একটি ফেরি। ফলে একদিকে ভোগান্তি অন্যদিকে ট্রলার ও নৌকায় বেশি ভাড়া দিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ।

সরজমিনে দেখা যায় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফেরি চলে। একবারে (এক ট্রিপ) ১০-১২টি ছোট বড় গাড়ি যাতায়াত করতে পারছে। পিছনে সিরিয়ালে পড়ে থাকে আরো একাধিক গাড়ি। ফেরি ঘন্টায় ২-৩ বার চলাচল করে। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী ও গাড়ি থাকার পরেও ফেরি ১টা চলাচল করছে। এই ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রী ও পরিবহনের চাপ থাকার কারণে ৫নং ঘাট থেকে ১টি ফেরি নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু সকল ফেরি পড়ে আছে। ফেরির চালক ৩ জন । একজন ড্রাইভার ফেরি চালাচ্ছে। বাকি ২ জন ড্রাইভার অলস সময় কাটাচ্ছে।

ফেরির রিসিট প্রদানকারী কর্মচারী আসানুল্লাহ বলেন, ১টি ফেরি নষ্ট সেটা ঠিক করা হচ্ছে। ফেরির অন্য একজন কর্মচারী বলেন, সব ফেরি ঠিক আছে। কিন্তু দুইটার বেশি চালানো হয় না। অনেক বেশি গাড়ি হলে তখন ২টা ফেরি চলে।

পিকআপ ড্রাইভার রহমতউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ফেরি আছে এর পরেও বন্ধ করে রাখছে। তাহলে বেশি ফেরি রাইখা লাভ কি? ১টা ফেরি চলে, এটার সুবিধা পাইতাছি। আর গাড়ি চালাই, এইটুকু তো বুঝি যন্ত্রপাতি না চালাইলে নষ্ট হইয়া যায়। ১টা চালাইবো আর ৩টায় জং ফালাইবো। কয়দিন পর পরই শুনি ফেরি নস্ট হইয়া গেছে।

সকালের ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত অনেক যাত্রী যাতায়াত করে। কিন্তু সে সময় ফেরি চালু শুরু হয় না। য়াতায়াত করার জন্য নৌকা এখনো তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ঘাটটি এখন ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে আছে।

বন্দরের বাসিন্দা অতশী চক্রবতী বলেন, ফেরিতে যাতায়াত করলে সময় বেশি লাগে। ফেরি ১টা ভরতে সময় লাগে। ফেরি ২টা চললে তখন আবার ফেরিতে যাতায়াত করি। ফেরি ১টা যায়, ১টা আসে সময় বেশি লাগে না। যাতায়াতে সুবিধা হয়। কিন্তু ১টা চললে তখন ফেরিতে যাই না, নৌকায় যাই। অন্যদিকে নৌকার ঘাটও ভাইঙ্গা আছে। এক নৌকা থেকে আরেক নৌকায় পা দিয়ে নামতে হয়। ঘাট থেকে পড়ে যেকোন সময় ঘটতে পারে যেকোন দূর্ঘটনা।

ফেরির চালক মো. বিল্লালের কাছে ফেরি ১টি চলছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ফেরি ঠিক আছে। কিন্তু গাড়ি কম। ফেরি পরিপূর্ন না হলে ফেরি চালানো যায় না। তেলের অনেক খরচ বেশি, পোষায় না। এই ফেরি দিনে ৩০-৩৫ বার পারাপার করে।

কিন্তু অন্যদিকে দেখা যায়, প্রতিবার ফেরিতে ৬-৭টা বড় গাড়ি উঠে। সাথে ভ্যান, রিক্সা মোটর সাইকেল তো আছেই। প্রতিবারে পারাপারে ৭০০-৮০০ টাকা উপার্জন হচ্ছে। ১টি ফেরিতে দিনে উপার্জন প্রায় ২৬-২৮ হাজার টাকা। ফেরির একজন কর্মচারী জানান, ফেরিতে ১ দিনে তেল বাবদ খরচ হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

তার মানে লাভজনক। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বাকী তিনটি ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ একটা ফেরি চলাচল করায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফেরি চলাচল বেশী হলে সময় কম লাগতো এবং মানুষ পারাপারের জন্য এখানে আসতো। অথচ তা করা হচ্ছে না।

ফেরির টোল আদায়ের হার ট্রেইলার গাড়িতে ৩৭৫ টাকা, হেভী ট্রাক ৩০০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক ১৫ টাকা, বড় বাস ১৩৫ টাকা, মিনি বাস ১১৫ টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান ৯০ টাকা, মিনি বাস ৭৫ টাকা, মাইক্রোবাস ৬০ টাকা, ফোরহুইল চালিত যানবাহন ৬০ টাকা, সিডান কার ৪০ টাকা, ৩/৪ চাকার মোটররাইজড যান ১৫ টাকা, মটর সাইকেল ১০ টাকা, রিক্সাভ্যান, রিক্সা, বাইসাইকেল, ঠেলাগাড়ি ৫ টাকা।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ