সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমী স্নানে লাখো পুণ্যার্থী

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:০৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। তিথি অনুযায়ী শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে স্নান উৎসব শুরু হয়। শেষ হবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে। স্নানোৎসবের প্রথম দিনে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। এ বছর দেশ-বিদেশের প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ পুন্যার্থী স্নানে অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

‘হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ করো’-এ মন্ত্র উচ্চারণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছেন। এর মাধ্যমে জাগতিক সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণে ঘেরা জীবন থেকে পাপমুক্ত হবেন তারা। গত বছরের মতো এবারও ১৮টি ঘাটে স্নান করছেন পুণ্যার্থীরা। ঘাটগুলো হলো, আড্ডা হরিরামপুর ঘাট, নলিত মোহন সাধু ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট, অন্নপূর্ণা ঘাট, রাজঘাট, মাকরী সাধু ঘাট, গান্ধি (শশ্মান) ঘাট, ভদ্রেশ্বরী কালি ঘাট, জয়কালী মন্দির ঘাট, পাষাণকালী মন্দির ঘাট, মনোজকান্তি বড়াল ঘাট, প্রেমতলা ঘাট, মনি ঋষিপাড়া ঘাট, ব্রহ্ম মন্দির ঘাট, দক্ষিণেশ্বরী ঘাট, কালীগঞ্জ পঞ্চপা-ব ঘাট ও সাবদী কালীবাড়ি ঘাট।

স্নানোৎসব ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা

লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবকে ঘিরে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা এ উৎসবে নানাভাবে সহায়তা করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৬’শ পুলিশ সদস্যরা। নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে ৮টি ওয়াচ টাওয়ার ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ী সেবাকেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

স্নানে আসা সবাইকে বিশেষভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে, কাউকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। নদীতে প্রতিটি ঘাটকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিশেষ টহলসহ মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা সাতার জানেন না তাদেরকে পানিতে নামতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে। খানিক দূরে দূরে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে কেউ হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

স্নান উপলক্ষে ৩৩টি ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সেবামূলক সংগঠন পুণ্যার্থীদের সেবা দিতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে বলে জানা গেছে। এসব ক্যাম্প থেকে পুণ্যার্থীদের রান্না করা খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্নান ঘাটগুলোতে কাপড় পাল্টানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, ও পুণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দুইটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা আছে।

এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে স্নান ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার আগে থেকেই সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, এখানে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসবে। তাই প্রতি বছরের মতো এবারো আমাদের সিকিউরিটি প্লান রয়েছে। এবার আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এখানে আমাদের প্রায় ১৬’শ পুলিশ এখানে কাজ করছে। তিন শিফটে কাজ করবে তারা। এখানে প্রায় ১৮টা স্নান ঘাট আছে। প্রতিটা স্নানঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ রয়েছে মহিলা পুন্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য। পাশাপাশি চেকপোস্ট, মোবাইল পার্টি ও আমাদের অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম রয়েছে। এছাড়া ৮টা ওয়াচ টাওয়ারও করেছি এবং নৌ পুলিশের টহলও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু মিলিয়ে এটা যেহেতু একটি উৎসব সুতরাং পুন্যার্থীদের সাথে সাথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও এ উৎসব পালন করবে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির মাধ্যমে এ উৎসবটি পালিত হবে বলে আমরা আশা করি।

সব খবর
ধর্ম ও নৈতিকতা বিভাগের সর্বশেষ