বুধবার ০৩ জুন, ২০২০

লকডাউন তুলে দেয়া না হলে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হবো: সেলিম ওসমান

বুধবার, ৬ মে ২০২০, ১৫:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: লকডাউন তুলে না দিলে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই বলছে, লকডাউন কেন তুলে দেয়া হচ্ছে। লকডাউন তুলে দেয়া না হলে, আয় না হলে আমরা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হবো। যা কয়েকদিনের মধ্যে করোনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। তাই এ সময় সরকারের নিয়ম মেনে, দূরত্ব বজায় রেখে আপনারা কাজ করবেন এই আবেদনটুকুই শুধু করবো।’

বুধবার (৬ মে) দুপুরে শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আড়াই বছর আগেই নারায়ণগঞ্জের এই হাসপাতালটি ৫শ’ শয্যা করে মেডিকেল কলেজ করার কথা ছিল কিন্তু আমরা তা পারিনি। আমি বিশ্বাস করি এই দুরাবস্থা গেলে আমাদের নারায়ণগঞ্জে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে যাবে।’

সেলিম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেই আমরা এই পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে পেরেছি। আমরা দৈনিক ৯০টা নমুনা টেস্ট করতে পারবো। জনবল বাড়লে আরও করতে পারবো। তখন ১৮০ থেকে ২০০ জনও টেস্ট করতে পারবো। সাধারণ সর্দি, কাশি হলেই হাসপাতালে ভিড় করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলেই কেবল করোনা পরীক্ষা করতে আসবেন। অকারণে হাসপাতালে ভিড় করে অসুবিধার সৃষ্টি করবেন না। এই টেস্ট করতে কিন্তু সাড়ে তিন হাজারের মতো খরচ হয়।’

সাংসদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সময় মতো আমরা পিপিই পাইনি, মাস্ক ছিল না। তারপরও চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছে। আমাদের করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল, এই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে দীর্ঘদিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে। একের পর এক নার্স আক্রান্ত হচ্ছেন, কারণ তারা অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়েছে। তখন আমি মনে করলাম আমার এ বয়সে আমাকে বের হতে হবে। কাজটা করে আনতে হবে। সরকারের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি সব করা সম্ভব না। আমরা ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়েছি। আমরা ১ কোটি টাকার একটি ফান্ড করেছি। ’

সেলিম ওসমান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বার একাডেমিতে নার্সদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। আমরা জানতে পেরেছি স্কুল খুলে দেয়া হবে। তখন আমাদের নার্সদের কোথায় রাখবো? আমরা ভেবে রেখেছি নতুন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে তাদের স্থানান্তর করবো। স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনের আরো দেয়া হবে। হাসপাতালে নিয়ম-কানুন যেন পালন করা হয়। আমার চিকিৎসকদের উপরে যেন কোনো চাপ সৃষ্টি করা না হয়। যদি ওই ধরনের কিছু হয় তাহলে আমরা আত্মসমর্পন করে দিবো, আমরা চালাতে পারবো না। তাই আগে চিকিৎসকদের থেকে জেনে নিন তারপর পরীক্ষা করতে আসুন। আমরা যে নিয়ম মেনে চলতে পারি সেটা নারায়ণগঞ্জবাসীকে প্রমাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে এখন কোনো রাজনীতি থাকতে পারে না। রাজনীতির চালটা যেন না চালা হয়। কে বেশি করলো, কে কম করলো এটা যেন না হয়। যার যার সামর্থ অনুযায়ী কাজ করবো। অনুদান দিতে হলে অবশ্যই জেলা প্রশাসককে জানাতে হবে। তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা করবে দিবেন যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সামসুদ্দোহা সঞ্চয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ