শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

র‌্যাব হতে চায় তুহিনের হাতে নিহত শাকিলের ছেলে

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সকাল ৭টায় খবর পাই তুহিন মারা গেছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। সত্যিই কি মারা গেছে! সকাল ৮টায় বিভিন্ন চ্যানেলে দেখতে পাই তুহিন মারা গেছে। আমার যে কি খুশি হচ্ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না।

ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গত জুলাই মাসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত রিকশার গ্যারেজের মালিক শাকিলের স্ত্রী শ্রাবন্তী। এই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি দেওভোগের কিশোর গ্যাং ‘তুহিন বাহিনী’র প্রধান সাইফুল ইসলাম তুহিন বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। তুহিনের মৃত্যুতে খুশি নিহত শাকিলের পরিবার।

শ্রাবন্তীর পাশেই খেলছিল তার আড়াই বছরের ছেলে তৌহিদ ইসলাম। ছেলেকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে খুব আদর করতো সে। ছেলের গাড়িটা নিয়ে প্রতিদিন দু’জন খেলতো আর মাটি মাখিয়ে আসতো। আমি কিছু বললেই বলতো, গাড়ি কি সাজিয়ে রাখার জন্য?’

এমন সময় তৌহিদ তার খেলনা পিস্তল দেখিয়ে আধো বুলিতে বলে উঠে, ‘মা, আমি র‌্যাব হবো। তুহিনের মত সবাইরে গুলি কইরা মারবো।’ ছেলের এমন কথায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শ্রাবন্তী, ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

শাকিলের স্ত্রী বলেন, ‘সকাল ১০টায় আমার ছোট ভাই এসে বললো, তুহিনের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। আমার বাবা তখন মর্গে যাচ্ছিলেন। আমিও মর্গে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে যেতে দেয়নি। আমি শুধু একবার তুহিনকে দেখতে চেয়েছিলাম। আমি দেখতে চাইছিলাম সেই লোকটাকে যে আমাকে বিধবা করেছে, যে আমার ছেলেটাকে পিতাহারা করেছে, ওর চেহারাটা দেখতে পেলে মনে খুব শান্তি পেতাম।’

শ্রাবন্তী বলেন, ‘এতদিন ছেলেকে নিয়ে খুব আতঙ্কে ছিলাম। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দরজা, জানালা বন্ধ করে বসে থাকতাম। ছেলেটাকে না কিছু করে বসে। রাস্তায় বের হতাম না। ভয়ে নয়; কষ্টে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তার হত্যার বিচারের দাবিতে পোস্টার লাগানো। পোস্টারগুলো দেখলে মনে আর জোর পেতাম না। পা যেন এগুতেই চাইতো না। তবে তুহিন মারা গেছে এটা জানার পর থেকে মনটা খুব হালকা লাগছে। অন্তত, আমার ছেলেকে বড় হয়ে এটা শুনতে হবে না, তার বাবার হত্যাকারী এখনো জীবিত। তার বাবা হত্যার বিচার হয়নি।’

এদিকে কেবল শাকিলের পরিবারই নয় তুহিনের মৃত্যুতে খুশি দেওভোগ এলাকাবাসীও। তুহিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন তারা। র‌্যাব-১১ সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে শহরের কালিরবাজারের র‌্যাব কার্যালয়ে যায় তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয় রিকশার গ্যারাজের মালিক শাকিল (৩০)। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দেওভোগের কিশোর গ্যাং ‘তুহিন বাহিনী’র প্রধান তুহিনকে প্রধান আসামি করা হয়। এ হত্যাকান্ডে ফুসে উঠে পুরো এলাকাবাসী। বিভিন্ন সময় শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামে পরিবার ও এলাকাবাসী।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ