রবিবার ১৬ মে, ২০২১

রোগীর অবস্থা খারাপ, মারা গেলে আপনার রোগীকে বেড দেবো

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমি আতংকিত এবং খুব চিন্তিত। দুশ্চিন্তা কাজ করছে আমার মধ্যে। সদর উপজেলায় প্রায় ৩০ লাখ লোকের বসবাস। গত এক বছর বিশেষ করে এই করোনা মহামারী সময়ে যে বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, আল্লাহ পাক আমাদের যে পরীক্ষা দিয়েছেন, আমার মনে হয় না মানুষ বুঝতে পারছে কী করবে। এতটুকু একটা দেশে কতগুলো মানুষ, এটাও একটি সমস্যা। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তাহলে আল্লাহ হয়তো রহম করবেন। তা না হলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। আমি গতবার আধা পাগল হয়েছিলাম রোগী ভর্তি করতে করতে। এইবারতো পুরোপুরি অসহায় হয়ে গিয়েছি। বেড (শয্যা) তো পাচ্ছিই না। হাসপাতালের মালিক মুখের উপর নাই বলে দেয়। পরের দিন আবার ফোন দিয়ে বলে, আইসিইউতে এক রোগীর অবস্থা খারাপ মারা যেতে পারে, মারা গেলে আপনার রোগীকে বেড দেবো নে। এই হলো আমাদের অবস্থা।’

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে বিষয়ে কিন্তু আমরা বলেছিলাম এবং সেটাই কিন্তু হয়েছে। ষড়যন্ত্র কিন্তু থামে নাই, এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে। কোভিড যেভাবে আঘাত করেছে আমাদেরকে ঠিক একইভাবে এই ষড়যন্ত্র আমাদেরকে আঘাত করবে। দেখা যাক কে কতটুকু করতে পারে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যদি আল্লাহ হায়াৎ দান করেন তাহলে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষমতা দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের আছে এবং তা প্রতিহত করা হবে।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাষী লোক স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমলাতন্ত্র খুব ভালো জিনিস না। আমলাতন্ত্র সবসময় যে ভালো সিদ্ধান্ত নেয় সেটা আমি মনে করি না। আমি এজন্য বলছি না যে, নাহিদা বরিককে সবসময় এ জায়গায় থাকতে হবে। আমি এ কারণেও বলছি না যে, যিনি এখানে আসবেন তিনি এখানে কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু সত্যি বলতে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় যদি নাহিদা বারিকের মত দশটা করে মানুষ থাকতো তাহলে দেশ তার লক্ষ্যে আরো আগে পৌছিয়ে যেতে পারতো বলে আমি বিশ্বাস করি। একটা হচ্ছে আমি সরকারের লোক, সরকারের নির্দেশনায় কাজ করি। আরেকটা হচ্ছে এদেশ আমার, আমি দেশকে ভালোবাসি তাই দেশের জন্যে কাজ করি। এই আমি, আমার দেশ, আমার মানুষ, আমার দায়িত্ববোধ, আমার দেশপ্রেম এই প্রতিটি জিনিস আমার থেকে বেশি তার মধ্যে বিদ্যমান আছে। বাগানে তো অনেক ফুল থাকে কিন্তু তার মধ্যে যদি গোলাপ ফুল থাকে যেটা খুব সুন্দর এবং যার প্রতিটি জিনিস পারফেক্ট আমার মনে হয় সেই ফুলটি হলো নাহিদা বারিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনের কথাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বলেছে যে, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত মহিলা ডিসি আসে নাই। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে, যদি প্রমোশন পায় আমার বিশ্বাস নাহিদা বারিককে আমরা স্বাগতম জানাবো। নারায়ণগঞ্জে প্রথম মহিলা জেলা প্রশাসক হিসেবে পদার্পণ করুক কারণ সে এটার প্রাপ্য। আমি মনে করি যে জায়গায় যাবো, যে জায়গায় কথা বলবো অব্যশই এই কথাটি তাদের সামনে বলবো। এই দুই বছরে যতটুকু করেছি সাধারণ মানুষের জন্যে তার মধ্যে একটি অবদান রয়েছে নাহিদা বারিকের।’

এ সময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা নাহিদা বারিক, নারাণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, কুতুবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আসাজ্জুামান, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর হোসেন প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ