শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

রেলওয়ের জমিতে রাসেল পার্ক: মন্ত্রী বললেন গায়ের জোরে হবে না

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘দু’টো প্রতিষ্ঠানই সরকারের, আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। রেলের জায়গা যদি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় তাহলে কিছু নিয়মকানুন, পদ্ধতি আছে সেসব অনুসরণ করে সবকিছু করা হবে। গায়ের জোরে কোন কিছু হবে না।’

নগরীর দেওভোগে রেলওয়ের জমিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন শেখ রাসেল নগর পার্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে রেলের ডাবল লাইন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন তিনি। প্রথমে চাষাঢ়ায় প্রকল্প কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা। সাধারণ মানুষের বাহনের জন্য এই রেলকে আরও যুগোপযোগী করতে এখানে এসেছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে রেলের সেবা আরও বেশি পায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও যাতে উন্নত হয় সেজন্য ডাবল রেল লাইন করা হচ্ছে। ডুয়েল গেজ রেল চলাচলের উপযোগী নতুন আরেকটা লাইন হচ্ছে। কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে চিটাগাং পর্যন্ত হাই স্পিড ট্রেনের লাইন যাবে। অনেকগুলো প্রকল্প এই এলাকায় আমাদের রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় আপনারা দাবি করেছেন রেলের জায়গা বিভিন্ন মানুষ বেদখল করে রেখেছেন। যে জায়গাটা আমাদের উন্নয়নের কাজে লাগবে সেটা ব্যবহারের জন্য নিয়ে অতিরিক্ত জায়গাগুলো যেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনতে পারি। অর্থ্যাৎ রেল মালিক, সুতরাং আপনি এখানে মার্কেট করতে চাইলে রেলের কাছ থেকে জায়গাটা নেবেন। কিন্তু এতোদিন দেখা গেছে আপনি কিছুই না, আপনি এলাকার মাস্তান, আপনি রাজনীতি করেন, বড় নেতা; বিভিন্ন সময় সরকার আসছে আর আপনি রেলের জায়গায় মার্কেট করে টাকা খাচ্ছেন আর রেল বঞ্চিত হচ্ছে এটা হবে না। এটা আমরা উচ্ছেদ করে দেবো।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে যারা দখলে আছে তাদের স্থাপনা ভাঙছি। সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদ করবো যারা অবৈধ দখলে আছে। পরে যারা লিজ চাইবেন তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে লিজ দেবো।’

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র নদী বন্দর। এটাকে কেন্দ্র করেই এখানে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। ঢাকায় কোন বড় স্টেশন ছিল না, ফুলবাড়িয়া দিয়ে সরাসরি এখানে চলে আসতো। এটাই ছিল ডেস্টিনেশন। কিন্তু পরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রেল যোগাযোগ গৌণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার রেলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা করে তুলতে উন্নয়ন করছে। নারায়ণগঞ্জের এই যে পুরোনো স্টেশন দেখছেন এগুলো কিছুই থাকবে না। উন্নত দেশের অবয়ব অনুযায়ী যে স্টেশন হবার কথা সেরকম হবে। সে নিয়ে আমাদের কাজ চলতেছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

ব্রিফিং শেষে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে জিমখানা এলাকায় রেলওয়ের জমি পরিদর্শনে যান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। এ সময় রেলের জমিতে শেখ রাসেল পার্কের চলমান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রীর নির্দেশে পার্কের কাজ বন্ধ করা হয় এবং তৎক্ষনাৎ ২৩ জন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ২১ জনকে ছেড়ে দিয়ে ২ জনকে আটক রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, দেওভোগ এলাকায় নির্মাণাধীন রাসেল পার্ক রেলওয়ের জমিতে কোন অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে পৃথক দু’টি অভিযোগও দায়ের করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ