রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস আজ

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ১৩ ডিসেম্বর। রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ওইদিনে রাজধানী ঢাকার কোলঘেঁষা উপজেলা সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর হানাদার মুক্ত হয় এই দুই উপজেলা।

রূপগঞ্জে ১৩ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে চার দিক থেকে ঘিরে ফেলে মুক্তিবাহিনীর সহযোগিতায় মিত্রবাহিনী। আগের দিন রাতে কুমিল্লার দিক থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরদিন দুপুর পর্যন্ত সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনী কোণঠাসা হওয়ার পর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ (বীর-উত্তম) তার ‘এস’ ফোর্স ও মিত্রবাহিনী, তৎকালীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল জাব্বার খানের পিনু গ্রুপ ও গোলাম দস্তগীরর (বীরপ্রতীক) গফুর কমান্ডার গ্রুপসহ প্রায় দুই হাজার মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনী বিজয় পতাকা উত্তোলন করে রূপগঞ্জকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করে। মুড়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাদে বিজয়ের পতাকা তুলে রূপগঞ্জকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। ৯ মাসের এ যুদ্ধে রূপগঞ্জে ১১ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যাদের নামের তালিকাসহ রূপগঞ্জ উপজেলা চত্বরের একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ১২ ডিসেম্বর রাতেই মিত্রবাহিনী অবস্থান নেয় সোনারগাঁওয়ে। মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক হানাদাররা তাদের দোসরদের রেখে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা ১৩ ডিসেম্বরকে সোনারগাঁ মুক্ত দিবস ঘোষনা করেন।

রাজধানী থেকে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট ও চট্টগ্রাম বন্দরগামী ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়েটি মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ এর নভেম্বর মাসে লাঙ্গলবন্ধ সেতুর উপর অবস্থানরত পাক হানাদরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সোনারগাঁওয়ের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা। পরবর্তী পর্যায়ে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান নেয় পানামগামী রাস্তার দু’পাশে। সারাদিন ব্যাপী ওই যুদ্ধে শহীদ হয় মজনু মিয়া। তার সম্মানে সোনারগাঁওয়ে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে “শহীদ মজনু সড়ক”।

যাবার পূর্বে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পিরোজপুর গ্রাম। নৃশংসভাবে হত্যা করে ওই গ্রামের নূরু মিয়া, আঃ রহমান, ফজলুল হক, আবু মিয়া ও আয়েত আলীকে। সেদিনকার মুক্ত দিবসে অংশগ্রহণ করেছিল মরহুম মোবারক হোসেন, কামন্ডার নূরু মিয়া বাচ্চু, ফুলু মিয়া, রুহুল আমীন বাদশাহ, জিয়াউল ফারুক, শফিউর রহমান, শফিকুল ইসলাম, ওসমান গনি, মনিরুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, গোফরান, আঃ হাই, মোঃ হোসেন, আজিজুর রাহমান, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ আরো অনেকে।

সব খবর
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বশেষ