রবিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২০

রূপগঞ্জে দ্বিতীয় দিনেও লকডাউনে কড়াকড়ি, খাবার দিচ্ছেন মন্ত্রী

শনিবার, ১৩ জুন ২০২০, ১৫:৫০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন কার্যক্রম পালিত হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রবেশপথগুলোতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের অবস্থান রয়েছে।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় হাট-বাজার দোকানপাট ছিল বন্ধ। ওষুধের দোকান ছাড়া কোন দোকান খোলা পাওয়া যায়নি। রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত অধিক সংক্রমিত এলাকা রূপগঞ্জ ইউনিয়নে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধে লকডাউন মেনে চলার জন্য মানুষকে সচেতন করছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।

এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনের কারণে কর্মহীন অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া হচ্ছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্দেশনায় এবং গাজী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজার উদ্যোগে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়িতে বাড়িতে এ খাদ্য সামগ্রী দেয়া হচ্ছে।

লকডাউন করা এলাকাগুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি নেই। চারদিকে সুনসান নীরবতা। এলাকাগুলোর প্রবেশ মুখে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে মানুষের চলাচলে। সড়কের মোড়ে মোড়ে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পাহারা। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি থানা পুলিশের সদস্যরাও খন্ড খন্ড ভাগে ভাগ হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে। এ সময় বিনা কারণে কেউ রাস্তায় বের হলেই পড়তে হচ্ছে জেরার মুখে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যারা বিনা কারণে রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে অথবা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে করা হচ্ছে জরিমানা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, রূপগঞ্জ ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। তার মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। বর্তমানে ৩২ জন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে  রয়েছেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাঈদ আল মামুন বলেন, লকডাউন চলাকালে কারো শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে ফোনে জানালে ওই রোগীর নমুনা বাড়িতে এসে নেয়া হবে। ইউনিয়ন মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের দেশের মানুষের চরিত্র অনুযায়ী অনেকে অনেক কিছু মানতে চান না। কিন্তু পুলিশ সকাল থেকেই লকডাউন শতভাগ কার্যকর করতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে। কেউ বিনা কারণে রাস্তায় বের হলে তাকে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য ও সুপারিশ অনুযায়ী গত ১১ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন পালনে মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। জনস্বার্থ বিবেচনা করেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সমস্যা হলেও সবার এ নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ