মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮

রাতের নগরীতে ইজিবাইকের রাজত্ব (ভিডিওসহ)

বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২১:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আবার বেড়েছে শহরজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য। বিকেলের পর থেকেই নগরীর সবত্র চলছে অবৈধ ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দাপট। প্রায় সময় দিনের বেলাও দেখা যায় এই দৃশ্য। অনুমোদনের দ্বিগুণ যানবাহন নগরীতে প্রবেশ করায় নগরীময় হরহামেশা যানজট, দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।

সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ছাড়া কোনো রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নগরীতে প্রবেশ করছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। দিনের বেলা ট্রাফিক পুলিশ কোনো ইজিবাইককে শহরের মুল সড়কগুলোতে প্রবেশ করতে না দিলেও রাতে দেখা যায় তার ভিন্ন চিত্র। ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগা সামনেই চলছে শত শত ইজিবাইক। রাতের নগরীতে যেন তাদের রাজত্ব্য। অবাধে, স্বাধীনভাবে চলাচল করছে তারা। একটির সঙ্গে অপরটির অস্বস্থ্যকর প্রতিযোগীতা কারণে হরহামেশা যানজট লেগেই থাকছে। যার ফলসরূপ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রায় সময় ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত দূর্ঘটনা। তার পাশাপাশি নগরীর ভিতরে গড়ে উঠছে অবৈধ অটোস্ট্যান্ড।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর দুই নাম্বার রেল গেট এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক, দুই নাম্বার রেল গেট চত্ত্বজুরে দীর্ঘ যানজট। চত্ত্বরের পার্শ্ববর্তী গ্রীন সুপার মার্কেট, সোনার বাংলা মার্কেটের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে গড়ে ওঠেছে অবৈধ ইজিবাইক স্ট্যান্ড। সড়কের একাংশে সাড়িসাড়ি ইজিবাইক পার্ক করা। নেই পা ফেলার জায়গা। সড়কের মাঝ থেকেই বুঝাই করা হচ্ছে যাত্রী। সড়কের মাঝ থেকে যাত্রী বুঝাই করার ফলে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। তৈরী হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

দুই নাম্বার রেল গেট চত্ত্বরে একাধিক ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইজিবাইক প্রবেশে, পার্ক করা বা অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি ও সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা নামা নিয়ে বলছেন না কিছু। প্রায় সময় চত্ত্বরে কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিতিই দেখা যায় না। এ অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

সাহেরা খাতুন, একজন চাকরীজীবী। দীর্ঘসময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। সাহেরা খাতুন বলেন, ‘এটা প্রতিদিনে সমস্যা। চাষাড়া থেকে ১৫ মিনিটের রাস্তা কিন্তু ৪৫ মিনিটেও এতোটুকু রাস্তা পাড় করতে পালরাম না। এর কি কোনো মানে হয়? সিটি কর্পোরেশন কিছু করেন না কেন? সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি তারা দেখেন না?’

জুনাইরা ইসলাম একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সামনেই পরীক্ষা, যার কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোচিং এ ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। কোচিং শেষে বাড়ি ফেড়ার পথে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় তাকে। জুনাইরা ইসলাম বলেন, ‘যানজট তো প্রতিদিনের। এ নিয়ে কি বলব? এ যানজটের কারণে প্রতিদিনই বাড়ি ফিড়তে লেট হয়ে যায়। যেটা বাবা,মা ও বাড়ির বড়রা ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু কোচিংও ইমপর্টেন্ট। তার উপর রিকশা ভাড়া। যানজটের অজুহাতে আমাদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। রিকশা চালকরা বসে থাকবে তবু যাবেনা। সিটি কর্পোরেশনও আামাদের জন্য কিছু করছে না। এ সমস্যা নিয়ে আমরা কোথায় যাবো বলতে পারেন?’

রিকশা চালক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘এই অটোগুলার কারণে শান্তি মতো রিকশাও চালাইতে পারি না। যেখানে না সেখানেই গাড়ি দাঁড় করাইয়া রাখে। কিছু বলাও যায় না। কিছু বললেই বকাঝকা করে। বেশি টাকা দিয়া পেডেলচালিত গাড়ি চালাই কিন্তু যানজটের কারণে মালিকের জমা টাকাই তুলতে কষ্ট হইয়া যায়। এ অবস্থায় ভাড়া বেশি চামুনা তো কি করমু?’

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম এহতেশামূল হক বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন সারাক্ষণ সব দিকে নজরদারী করতে পারে না। যতটা সম্ভব আমরা করছি। যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মানুষ নিয়োগ রয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া আমাদের জনবলের অভাব রয়েছে। যার ফলে আমরা সব সময়, সবকিছু মনিটরিং করতে পারি না।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ