শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯

রওশন আরা মুক্তার কয়েকটি কবিতা

বুধবার, ৪ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

জাতিসংঘ

লাইজুর একজন স্বামী আছে
মিশন নিয়ে সে জামাই বিদেশে চ’লে গেছে
ছোট বাচ্চাটি নিয়ে তাই সে থাকে বাবার বাড়ি
“বাসায় আসিস” ব’লেই লাইজু চ’লে যায় ক’রে তড়িঘড়ি
সে পুলিশ হ’তে চেয়েছিল সম্ভবত
স্বপ্নে দেখত পিস্তল-হাতে চোর-ডাকাত ধরছে
নেত্রকোণার হোস্টেলের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটা নাচত
কে জানে, ওরা কে কোথায়, কার সংসার না-জানি করছে

 

বৃষ্টি ২০১৭

আমিও সত্যি সত্যিই ছিলাম আর আছি।
তুমিও। আমরা কোনো নাই দুনিয়ায় থাকি না।
তুমিহীন ভাষায় আমি লিখে যাই তোমারই নাম
খাচ্ছে বাদাম-মালিকেরা দিচ্ছে না দাম
ঢাকার বাতাসে তোমার নিঃশ্বাস খুঁজছি
আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়ে আছি আয়না
সবচেয়ে অন্ধরা নিজেদের দেখছে
সেই আয়নাতে সবচেয়ে বেশি
বধিরেরা চ’লে যাচ্ছে মার্কেটের আলোতে
আমার চোখ ছোট হ’তে-হ’তে
ছোট হ’তে হ’তে মেট্রোপলিটন-জাদু দ্যাখে না।
আমি তখন হেঁটে যাচ্ছিলাম
পুরুষরা সব অসহায়ের মতন ছাতা সামলায়
ভিজতে ভিজতে চ’লে গেলাম নিজস্ব বাসায়
একবার একটু ঘুমাব এই আশায়
আমি প্রতিদিন দরজা খুলি নিজের বাসায়।

 

জালাম্তু নাফসি

পড়তে বোলো না
মিথ্যা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে
বাক্যের ‘ভিতরে’ ‘অন্য বাক্যের’ গঠন;
শব্দ আর শব্দের মধ্যকার দূরত্বে ভাসছে—
ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ ভূতের নাচ, অনাচারের প্রীতি
অক্ষরে অক্ষরে বিতাড়িত আগুন, নফস প্রলুব্ধ জুলুমের
রাজনীতি
সতেরো হরকতের পরিচয় হলক্, জিহ্বা আর নাকের বাঁশিতে
মেশিনে ছাপা কোরআন পোড়ার দৃশ্যলিপি ছাইমাখা আয়নাতে
শীষ্যভাবে মতিহীন অন্তঃসারশুন্য জ্যোতিহীন নব্য ইসলামিক্স
ব্যাংকের রাস্তাটি ভক্তিহীনের সিরাতুল মুস্তাকিম
সত্য প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে
বিবৃতি দিয়ো না।

 

জলে-স্থলে-অন্তরিক্ষে...২০৪০

হাঁটি নাই গত কয়েক সপ্তাহ
রাস্তাগুলো আমার দিকেই আসছিল
আর স্মারকে পাওয়া পাখনাওয়ালা বেয়াদবগুলো
নিজ নিজ হাড়ি, গাড়ি আর তাড়ি নিয়ে
লোহাগন্ধ চোখ দিয়ে আমাকেই দেখছিল
এ-ভার আমি সইতে পারি না
এই বুটজুতা বুলডোজার
এক মন্ত্রে গাঁ উজার
এই মাইক আর এর ভাষা
নিখোঁজ সংবাদে চোখ ঝাপসা
সমুদ্রসীমায় যৌথ টহলের ভিড়ে
মাঝি হারিয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে

 

আত্ম-আসক্ত

চোখের সামনে তাড়াহুড়ো দৌড়াদৌড়ি
অথচ তুমি দেখছিলে ধীর গতিতে
ওপরে উঠছে এক ফানুস
অন্ধকার রাতের আকাশে যেন অমোঘ আলো
ছোটাছুটি করছিলো সে
তোমার কাছে, উড়ছিল সে যেন স্থির,
যেন হিলাতে পারবে না
তাকে কোনো মাঘের বায়ু
যেন তার গা অমলিন,
আগুন লাগে না গায়ে
অথচ পরিপূর্ণ দাহ্যতায়
যে তোমাকে, যে সে দেখছিলো
পারদ ওঠা আয়নার ওপাশে
সহজ স্বাভাবিক একটি মানুষ
প্রতিবিম্বহীন, যেন একটিই স্বর
এই যে তুমি দু`টি মানুষ?
দুইয়ের শরীর এক!
এই যে তোমার দু`টি কথা
একই বাগযন্ত্র আর মুখ
এই যে তোমার অযুত লক্ষ্য নিযুত কোটি দৃষ্টি
দু`টি চোখের মধ্যখানে আরও এক চোখ
`আমি আমি` করেছো যে তুমি
এদিকে বিপরীতে তুমি তুমি রব
চাঁদ ক্ষয়ে যায় চাঁদ নিভে যায়
অলক্ষ্মী অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায় সব।

সব খবর
শিল্প ও সাহিত্য বিভাগের সর্বশেষ