মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯

যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগ দিনার, রুহুল বললেন ভিত্তিহীন

সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা ও তার অনুগতদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ সামাজিক, রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ করেছেন একই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা। এমতাবস্থায় নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর।

আয়শা আক্তার দিনা অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তবে নির্বাচিত হবার পর থেকেই কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা নানাভাবে আমাকে হেনস্তা করে যাচ্ছেন। তিনি আমাকে হিংসা করেন। উনার লোকজনের কাছে বিভিন্ন সময় আমাকে যৌন হয়রানির শিকারও হতে হয়। যে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা আমাকে ধাক্কা দেয়, ল্যাঙ মারে, গায়ে পরে যায়। কিছু বলতে গেলে বলে, ভুল হয়ে গেছে। ভুল কতবার হতে পারে? ২ থেকে ৩ বার। বারবার যেটা হয় সেটা তো ভুল নয়। তার উপর রাস্তা দিয়ে যাবার সময় তারা আমাকে টিজ করে। নানা রকম কথা শুনায়।’

তিনি বলেন, ‘এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলেও তিনি আমাকে বাধা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি আমার নামে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন। আমার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভীকেও ভুল বুঝিয়ে আমার উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মেয়র আমাকে ভুল বুঝেননি।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি মিথ্যাচার ছড়িয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। তখন আমি সন্তানসম্ভবা। গ্রেপ্তার এড়াত গিয়ে তার কারণে আমাকে আমার সন্তান হারাতে হয়েছিল। বহু বছরের পর আমি কনসিভ করেছিলাম। তার কারণে সন্তানকে নিয়ে আমাদের সকল স্বপ্ন, আশা ভেঙ্গ যায়।’ সন্তান হারানোর কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গ পড়েন কাউন্সিলর দিনা। কান্না জড়ানো কন্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ২২ জুলাই মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় আমরা সবাই উপস্থিত হই। সেদিন আমি বলেছিলাম, মশক নিধন কর্মসূচিতে যেন ওই এলাকার নারী কাউন্সিলরদের সাথে রাখা হয়। এতেই আমার উপর চড়াও হন কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা। তিনি আমাকে অশ্লীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে মারমুখী আচরণ করেন।’

দুঃখ প্রকাশ করে কাউন্সিলর দিনা বলেন, ‘আমি এতদিন মুখ খুলিনি। সাধারণ মানুষ যখন শুনবে একজন কাউন্সিলর তার এলাকায় সুরক্ষিত নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ইভটিজিংয়ের শিকার হন তাহলে প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা উঠে যাবে। অনেক পুরুষ নারীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তবে সমাজে রুহুল আমিন মোল্লার মতো কিছু পুরুষ রয়েছেন যারা নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, হেনস্তা করে।’

এ বিষয়ে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর দিনার সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার লোকজন যদি যৌন হয়রানি করে থাকে, আমি যদি তার কোনো ক্ষতি করে থাকি তাহলে আইনের আশ্রয় নিক। দেশে আইন আছে, প্রশাসন আছে। এত কিছু হলো কিন্তু সে কোনো ব্যবস্থা নিল না। এটা কিভাবে হয়। গত কাউন্সিলর মিটিং এ সে আমার নামে অনেক মিথ্যে অভিযোগ তুলে। তখন তার উত্তরে কথা বলতে গেলে সেই আমার উপর চড়াও হয় এবং অভদ্র আচরণ করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সে তো এলাকার কোনো কাজই করে না। মাত্র কিছুদিন আগে নির্বাচিত হলো। আমি তাকে বাধা দেবো কি, সে নিজেই আমার কাজে বাধা দেয়। উনি বলছেন, আমার কারণে তার বাচ্চা নষ্ট হয়েছে কিন্তু পুলিশের বিষয়গুলো তো প্রশাসনের। এখানে আমি কোথা থেকে আসলাম তা আমার বোধগম্য নয়।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ