শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০, ২০:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। হত্যার ঘটনা আত্মহত্যা বলে প্রচার করারও অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

নিহত নারীর নাম- সোনিয়া আক্তার তামান্না (২০)। সে সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পানাম গাবতলী এলাকার শহিদুল্লার মেয়ে।

তামান্নার স্বজনরা জানান, প্রায় ৮ মাস আগে জেলার বন্দর উপজেলার আমিরাবাদ বটতলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ফয়সালের (২৩) সাথে তামান্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পূর্বে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এ বিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন মেনে না নিলেও পরবর্তীতে ১ লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার পর তামান্নাকে পুত্রবধূ হিসেবে স্বামীর বাড়িতে মেনে নেয়। তবে কিছুদিন পরেই আবার টাকার জন্য তামান্নাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় তাকে। সর্বশেষ গত দুইদিন আগে তামান্না তার ভাইকে ফোন করে জানায় যে তার স্বামীকে আরও টাকা না দিলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।

এ ঘটনার পর শুক্রবার (১২ জুন) সকালে এক মানবাধিকার কর্মী তামান্নার বাবার বাড়িতে মোবাইলে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তবে তামান্নাার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ ঘটনা গোপন রাখে এবং তার বাবার বাড়িতে খবর না দিয়ে লাশ খাটে ফেলে পুলিশকে খবর দেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তামান্নার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হানিফ বলেন, সোনিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর তার লাশ দেখতে পাই। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে সোনিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, দাবিকৃত যৌতুক না দেয়ায় সোনিয়াকে তার স্বামী নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তার মৃত্যুর ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে যদি হত্যাকান্ড বলে প্রমানিত হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ