শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

যে কারণে ৫নং ঘাটে দুটি ফেরির একটি চলছে

শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নদীর দুইপাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে শীতলক্ষার ৫নং ঘাটে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু যানবাহন পারাপারের সংখ্যা কম হওয়ায় একটি ফেরি বন্ধ রাখা হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য ফেরি অপেক্ষা করার কারণে সাধারণ মানুষ ফেরি দিয়ে পারাপারের সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ঘাটের নৌকা ও ট্রলার দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) ৫নং ঘাট ঘুরে দেখা যায় ফেরিঘাটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কিছু দৃশ্য। ফেরিঘাটে দুইটি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও ঘাট থেকে একটি ফেরি চলাচল করছে। অন্য একটি বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। সকাল ৭টায় প্রথম ফেরি ৫নং ঘাট থেকে বন্দরঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে সেই ফেরি ৯ টার পরে ৫নং ঘাটে যাত্রী নিয়ে ফিরে। এর পরে বেলা সোয়া ১১ টায় ফেরি চালু করে। সেই ফেরি দেড়টায় ফিরে ৫নং ঘাটে। পৌনে দুইটায় ঘাট থেকে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা পর পর ফেরি চলছে। এতটা সময় পরপর যাতায়াত ব্যবস্থা হওয়ার কারণে ফেরিতে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। যাত্রীদের জন্য ফ্রি করা হলেও অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে যাত্রী নেই বললেই চলে।

ফ্রিতে চলাচল করার ব্যবস্থা থাকলেও সময়ের কারণে যাত্রীরা নৌকা ও ট্রলারে অর্থ ব্যয় করেই যাতায়াত করছে। নৌকা থেকে নামার সময় রুবিনা বলেন, ফেরি দিয়া সারাদিন অপেক্ষা করতে হয়। এতো সময় নিয়া ঘুরতে বের হওয়া যায়। জরুরী কাজে যাওয়া যায় না।

যারা ভ্যান, রিক্সা, মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার নিয়ে আসে তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে বিরক্ত হয়ে অন্য ফেরিটি চালু করার কথা বলেন।

বন্দরের বাসিন্ধা গফুর বলেন, ভেবেছিলাম এখানে ফেরি সার্ভিস হয়েছে। চলাচলের কষ্টটা একটু কমে যাবে। কিন্তু লাভ নাই। সার্ভিস চালু করার পর আজকে প্রথম আসছি। আসার পর দেখি এই অবস্থা। নবীগঞ্জ ঘাটে লেট হয়, কিন্তু এতটা না।

একদিকে যাতায়াতের বেহাল অবস্থা। অন্যদিকে ফেরির পল্টুনে উঠার রাস্তাটির অবস্থাও পুরোপুরি ভঙ্গুর। যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটা যে শুধু যাত্রীরাই বলছেন, তা নয়। ফেরির কর্মচারী আনোয়ার পল্টুনে উঠার রাস্তার ভাঙ্গা অংশ দেখিয়ে বলেন, এইটা মেরামত করতে হইব। নয়তো কোন একদিন একটা খারাপ এক্সিডেন্ট হইয়া যাইব। ভ্যানের চাক্কাটা ঢুইকা গেলে ভ্যানের জিনিষ সহ উল্টায় যাইবো।

ছোট ছোট ভ্যান, রিক্সা গেলেও এই ফেরি দিয়ে বড় কোন গাড়ি চলাচল করছে না। পল্টুনে উঠার রাস্তাটি ভঙ্গুর। দুপুরে একটি ট্রাক যাওয়ার জন্য এসে রাস্তার অবস্থা দেখে বাধ্য হয়ে ফিরে যায়।

এদিকে ফেরির সুপারভাইজার মনির হোসেন বলেন, ফেরি চলার সময় শুরু সকাল ৭ টা থেকে সন্ধা ৭ টা। কিন্তু গাড়ি থাকলে এর পরেও চলে। এটা যাত্রীদের জন্য কম, গাড়ির পারাপারের জন্যই করা হয়েছে। একটা ফেরি একবার চললে ৩০০-৪০০ টাকার তেল লাগে। কিন্তু ভাড়াটা সেই পরিমানে উঠতেছে না। তাই ফেরি একটা চলছে। অন্যটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর গাড়ি না ভরে ফেরি চালানো যায় না, তাই সময় বেশি লাগতাছে। কিছুদিন পরে সব চালু হইলে সব ঠিক হইয়া যাইব।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট ঈদের একদিন পূর্বে ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান শীতলক্ষার ৫ নং ঘাটে ফেরি সার্ভিস ঊদ্ভোধন করেন। দুইটি ফেরি সহ ফেরি সার্ভিস চালু হলেও বর্তমানে ফেরি চলাচল করছে একটি। ৫নং ঘাট থেকে বন্দরঘাটের এই রুটে ফেরি দুইটি চলাচল করে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ