শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

যে কারণে ওয়াজিদকে উদ্ধারে এত সময় লাগলো

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নগরীর বাবুরাইলে চার তলা ভবন ধসের ঘটনায় ভেতরে চাপা পড়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্র ওয়াজিদকে (১২) মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভবন ধসের ৪৬ ঘন্টা পর লাশটি উদ্ধার করেন দমকল বাহিনীর উদ্ধার কর্মীরা।

উদ্ধারকার্যে এত সময় লাগার কারণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘আমরা গত তিনদিন যাবত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছি। গত কাল পর্যন্ত আমরা ইনসার্ট পদ্ধতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছিলাম। গতকাল লক্ষ্য করলাম খালের পানি অনেক বেশি। যার কারণে গতকাল সারাদিন মেশিনের সাহায্যে পানি নিষ্কাশন করেছি। এরপর আমাদের ডুবুরি টিমের মাধ্যমে সার্চ করে দেখলাম ভবনের বিমের (খুটি) প্রায় ৪ ফিট নিচে শিশুটির লাশ। এ কারণেই আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। আজ ৩টা ১৫ মিনিটে আমরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই একটি বাচ্চাই উদ্ধার বাকি ছিল। তাকে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করছি।’

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ধসে পড়া ভবনের খুটির নিচে চাপা পড়া ওয়াজিদের দেহটি শনাক্ত করে দমকল বাহিনীর উদ্ধার কর্মীরা। পরে বেলা সোয়া ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। আইনি কার্যক্রম শেষে লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক ও ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহত ওয়াজিদের দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন সদর ইউএনও।

ওয়াজিদের লাশ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে চারদিকের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বাদ মাগরিব কাশীপুর কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা শেষে সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

গত রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেল সোয়া চারটায় ফতুল্লা থানাধীন বাবুরাইলের শেষ মাথায় মুন্সিবাড়ি এলাকার এইচএম ম্যানশন নামে চার তলা ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকৃত শোয়েব (১২) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়।

বাবুরাইল এলাকার মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে শোয়েব ও একই এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেলের ছেলে ওয়াজিদ সম্পর্কে খালাতো ভাই। তারা দেওভোগের বেপাড়ীপাড়া এলাকার সানরাইজ মডেল স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে তারা ওই ভবনে আরবি পড়তে গিয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহত শোয়েবের মামা রনি বাদী হয়ে ধসে পড়া ভবনের মালিকপক্ষের ৫ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ