সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

না.গঞ্জে ভোটের হাওয়া

‘যে উন্নয়নের ওয়াদা করবে তাকেই ভোট দেব ’

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম পাড়া-মহল্লা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনায় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন? কারা জয় লাভ করবে? নির্বাচনে নিরাপদে ভোট দেয়া যাবে কি না? শেষ পর্যন্ত কি ভোট গ্রহণ হবে? হলেও সবাই কি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে? নাকি আবারো পেশীশক্তির বলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এমন নানা প্রশ্ন সাধারণ ভোটারদের মাঝে। ৫ বছর পর সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এই খবরে অনেকটাই উচ্ছসিত এবার সাধারণ মানুষ। তবে নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে ভিন্ন মাত্রাও লক্ষ্য করা গেছে। এরমধ্যে একটি পেশার মানুষ হচ্ছে হকার। তাদের মুখ থেকে উঠে এসেছে নির্বাচনী নানা কথা। শুধু তাই নয়, নির্বাচন নিয়ে তাদের ভবনাগুলোও তারা প্রকাশ করেছেন। নগরীর বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রেস নারায়ণগঞ্জ। তার মধ্য থেকে ৫ জনের বক্তব্য তুলে ধরেছে প্রেস নারায়ণগঞ্জ তার পাঠকদের জন্য।

নূর মোহাম্মদ (৪৩) চাষাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে দীর্ঘ ১৯ বছর যাবত ব্যবসা (হকার) করে আসছেন। কম বেশি নগরীর সকল খবরই রাখেন তিনি। তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে হতাশার শেষ নেই। নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন নগরের মধ্যে আছি। কোন দল কি করে সবই দেখি। আমার কাছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেউ যোগ্য না কিন্তু উপায় কি। ওরা ছাড়া আছে কে? আমরা ভোট দিমু কারে? মাঝে মাঝে দেখি কয়েকটা দল মিছিল করে, মানববন্ধন করে। কিন্তু ওরা তো জিতবো না। আজ বাসদ মিছিল করলো। শুনেছি তারাও নির্বাচনে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের ভোট দেবে কে? ওরা মিছিল আর মানববন্ধন পর্যন্তই। এর বেশি কিছু না। এই দেশের কিচ্ছু হইবো না। দল বদলাইবো কিন্তু দেশের অবস্থা বদলাইবো না।’

মো. আলমগীর (৩৪) উত্তর চাষাড়ার বাসিন্দা। প্রায় ১৭ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কে ব্যবসা করে আসছেন। নারায়ণঞ্জের বাসিন্দা হয়েও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার মধ্যে নেই কোনো ব্যস্ততা। কাকে ভোট দেবে বা কোন দলকে সমর্থন করবে তাও জানেন না। তিনি বলেন, ’এখনো জানি না কাকে ভোট দেব। কিন্তু যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে চাই। ভোটের সময় দেখা যাবে কাকে ভোট দেয়া যায়। যে প্রার্থী উন্নয়নের ওয়াদা করবে তাকেই ভোট দেব।’

মো. সুমন (৩৯) বন্দরের বাসিন্দা। মো. আলমগীরের মতো সেও ১৭ বছর যাবত চাষাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারী করে আসছে। শহরে অনেক কিছ্ইু দেখেছেন। তবে হকারদের পক্ষে একেএম শামীম ওসমানের অবস্থানের কারণে অনেকটাই ওসমান পরিবারের প্রতি সমর্থক তিনি। সুমন বলেন, ‘সেলিম ওসমান আমাদের বন্দরবাসীর জন্যও অনেক কিছু করেছেন। উনি খুব দানশীল। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শামীম ভায়ের বড় ভাই সেলিম ওসমান আসলে আমাদের জন্য ভালো হবে। তাই আমি আমার ভোট সেলিম ওসমান ভাইকেই দেবো।’

মো. আনোয়ার হোসেন (৩৩) কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। তবে ৫ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ হাকার হিসেবে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘এবার ভোট দিমু না। ভোট দিয়া হইবো কি? গতবার ভোট হয় নাই তো কি হইসে? আমরা কাজের মানুষ কাজ করমু, খামু। আমার একটা ভোটে কিছুই হইবো না। আর ভোট দিতে গ্রামে গিয়া দেখমু অন্য কেউ আমার নামে ভোট দিয়া রাখছে। এর থেইক্কা ভালো আমি ভোটই দিমু না।’

আরেকজন হকার জসীম বলেন, ‘নিজের ভোট তো দেবোই। সবাই যাকে ভোট দেবে তাকেই ভোট দেবো। এখানে সবাই যা বলবে তাই। একা একা ভোট দিয়া কোনো লাভ নাই। কিন্তু আমার মনে হয় এবার বিএনপি ক্ষমতায় যাইবো।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ