মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ঘাতকের স্বীকারোক্তী

যেভাবে নাঈমকে হত্যা করা হয়

মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লার নন্দলালপুরে মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ আবু নাঈম (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে পরিচিতজনরাই তাকে হত্যা করে। একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই ঘাতকরা নাঈমকে ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত মোঃ সুমন ওরফে রাফা (১৮) মঙ্গলবার আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকা থেকে রাফাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাফা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার কুশংগাল গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। ফতুল্লার নন্দলালপুর উত্তর মহল্লার শাহ আলমের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো।
নিহত আবু নাঈম মুন্সীগঞ্জের চরডুমুরিয়া থানার মুনছুর আহম্মেদের ছেলে। সে ফতুল্লার আলীগঞ্জস্থ জামিয়া কোরআনিয়া এমদাদিয়া আলীগঞ্জ মাদ্রাসায় মীজান নূছ-ছরফ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। লেখাপড়া করার সুবাদে আবু নাঈম ফতুল্লার পিলকুনী জোড়া মসজিদ এলাকায় নানা বশির উল্লাহর কাছে থাকতো।
রাফার তথ্যমতে জানা যায়, ফতুল্লার পিলকনী এলাকার জনি (১৮) ও হৃদয় (১৮) তাদের অন্যান্য সহযোগিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন মেয়েদের নামে ভূয়া আইডি খুলে। তারপর ওই আইডি থেকে লোকজনদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে নির্দিষ্টস্থানে ডেকে নেয়। এবং ব্ল্যাকমেইলিং করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এরই ধারাবাহিতকায় জনি Sintiya Jahan Tora (NT) সিনথিয়া জাহান টরা (এনটি) নামে ফেসবুকে একটি ভূয়া আইডি খোলে। এবং আইডিতে আবু নাঈমকে এ্যাড করে। জনি এই ভূয়া আইডির মাধ্যমে আবু নাঈমের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত চ্যাটিং করে। এক পর্যায়ে ১৬ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় জনি, তুরাব ও হৃদয় নন্দলালপুর উত্তর মহল্লার শাহ আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো: সুমন ওরফে রাফার কাছে যায়। তারা আবু নাঈমকে Sintiya Jahan Tora (NT) সিনথিয়া জাহান টরা (এনটি) নামে ভুয়া আইডির মাধ্যমে ব্ল্যাক মেইল করে টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয় সুমন ওরফে রাফা। পরিকল্পনা মতে, জনি ১৯ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় আবু নাঈমকে নন্দলালপুরস্থ কাকলী ডাইংয়ের পার্শ্বে ডেকে আনার জন্য সহযোগি হৃদয়কে পাঠায়। আর সুমন ওরফে রাফাসহ প্রায় ২০-২৫জন অন্য সহযোগি নন্দলালপুরস্থ কাকলী ডাইংয়ের গলির ভেতর অবস্থান করতে থাকে। সন্ধ্যা অনুমান ৬টা দিকে আবু নাঈমকে সঙ্গে করে হৃদয় কাকলী ডাইংয়ের গলিতে যাওয়া মাত্র সুমন ওরফে রাফাসহ তাহার সহযোগিরা আবু নাঈমকে ঘিরে ধরে। এবং এলোপাথারী কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এবং নাঈমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চায়। মার খেয়ে আবু নাঈম মাটিতে পড়ে গেলে সিফাত তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে আবু নাঈমের বুকে পিঠে উপর্যপুরি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই আবু নাঈম মারা যায়। পরে ঘাতকরা আবু নাঈমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।


এই ঘটনায় নিহত আবু নাঈমের বাবা মনছুর আহম্মেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত মোঃ সুমন @ রাফাকে ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় নন্দলালপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে আদালতে স্বীকারোক্তী দিতে রাজি হয়। এবং মঙ্গলবার ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে রাফা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রেস নারায়ণগঞ্জকে আরো জানান, রাফার তথ্যমতে, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ