মঙ্গলবার ১৮ জুন, ২০১৯

মেঘনায় দুই সেতু উদ্বোধন, ঈদে স্বস্তিতে বাড়ি যাবে যাত্রীরা

শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১৫:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘ অপেক্ষার পর খুলে দেয়া হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু। রমজানের ঈদের আগেই সেতু দুইটি খুলে দেয়াতে মহাসড়কে যাত্রী ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে। ঈদে কোন যানজট ছাড়াই সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২৫ মে) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দু’টি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকেই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জাইকার সহযোগিতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তদের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনবিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা সেতুতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। আর ১০১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেনবিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। জাপানের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি ওবায়েশি করপোরেশন, সিমিজু করপোরেশন, জেএফএই করপোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেড এই সেতুর ঠিকাদারি কাজে ছিল।

স্থানীয় সূত্র মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। গোমতী-মেঘনা এ দুই সেতুর টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে গিয়ে যানজটের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। নিত্যদিনের যানজটের কারণে মহাসড়কটি মহাভোগান্তিতে রূপ নিয়েছিলো। বিগত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে চলমান এ ভোগান্তির অবসানে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় গোমতী-মেঘনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

সেতু দু’টি উন্মুক্ত করার পর দেখা যায়, পূর্বের ন্যায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে নেই কোনো যানবাহন। সেতু দু’টি খুলে দেওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে যানবাহন। যে সড়কে দীর্ঘ যানজট ও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যেতো সেই সড়ক পুরোই ফাঁকা। সেতুর টোল দেয়া ছাড়া নেই কোনো জটলা। আসন্ন ঈদে কোনো বাধা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিড়তে পারবেন বলে আশা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

সৌদিয়া পরিবহনের বাসচালক বিল্লাল বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ায় একটানে চলে আসছি ঢাকা। আগে তো যেতে-আসতে আমাদের অনেক সময় লাগতো। এমনও দিন গেছে, আমরা সড়কেই ইফতার ও সেহরি করেছি। এবার আর গতবারের মতো কোনো যানজট থাকবে না বলে আশা করা যায়।’

জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসনিম হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এ যানজট নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশের সহায়তা নিয়ে থাকি। এ বছর এ সেতু ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু থাকায় আর কোনো যানজট সমস্যা থাকবে না বলে প্রত্যাশা করি।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ