সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯

মীর জুমলা সড়কের চিরচেনা চিত্র পাল্টে দিলেন এসপি

শুক্রবার, ২৮ জুন ২০১৯, ২১:১৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রোদ কিংবা বৃষ্টি সব সময় স্যাঁতস্যাঁতে, কাঁদাময় একটি সড়ক। মাছ-মাংস-সবজির দূর্গন্ধযুক্ত অবশিষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এখানে সেখানে। সড়কের প্রায় পুরোটাই দখল করে থাকতো অস্থায়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা। প্যান্ট হাটু পর্যন্ত উঠিয়ে সড়কটিতে চলাচল করতে হতো। সড়কটি দিয়ে হাঁটতে গেলে রোজ নষ্ট হতো পোশাক। এই ছিল শহরের সুপরিচিত দ্বিগু বাবুর বাজার সংলগ্ন মীর জুমলা সড়কের নিত্যদিনের চিত্র।

কিন্তু একি! রাতারাতি পাল্টে গেছে চিত্র। সড়কের দুই পাশে নেই অস্থায়ী কাঁচাবাজারের দোকান। সড়কে নেই সেই দূর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনা। যে সড়কে কদাচিৎ রিকশা দেখা যেতো। সেই সড়কেই অবাধে চলছে রিকশাসহ অন্যান্য যান।

সকালে দ্বিগুবাবুর বাজারে সবজি কিনতে এসে সড়কের এমন চিত্র দেখে অবাক ব্যবসায়ী জয়নাল হাজী। তিনি বলেন, ‘এটা যে রাস্তা তাই তো ভুলে গেছিলাম। বাজারই বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। সকালে এমন ফাঁকা অবস্থা দেখে ভাবলাম ভুল জায়গায় আসলাম কিনা!’

শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ও কালিরবাজারের নবাব সিরাজউদ্দোল্লা সড়কের সংযোগ করতেই মীর জুমলা সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। শহরের অন্যতম দ্বিগুবাবুর বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের যাতায়াতের সুবিধার কথাও চিন্তা করা হয়েছিল সড়কটি নির্মাণের সময়। কিন্তু সেই সড়ক পরিণত হয়েছিল এক ময়লার ভাগাড়ে। পুরো সড়ক চলে গিয়েছিল কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের দখলে। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পাল্টায়নি কিছুই। সিটি কর্পোরেশনও নেয়নি তেমন কার্যকরী কোন উদ্যোগ।

দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি এক রাতের মধ্যেই দূর করেছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) মধ্য রাতে এসপি হারুন অর রশীদের নির্দেশে মীর জুমলা সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পরিষ্কার করানো হয় পুরো সড়ক। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পাল্টে গেছে সড়কের চিত্র। অনায়াসে চলাচল করছে পথচারীরা। সাপ্তাহিক বাজার করে স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরছে ক্রেতারা। সড়ক নেই সেই দূর্গন্ধময় শাক-সবজির অবশিষ্টাংশ, কাঁদা ও ময়লা-আবজর্না।

কথা পথচারী রাজিয়া খাতুনের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসা হলো বাজারের পাশেই। প্রতিদিন এই সড়কটি দিয়ে চলাফেরা করা ছাড়া উপায় ছিলো না। ছেলে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসা ও নিয়ে আসার সময় অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। ছেলে মেয়েদের ইউনিফর্ম নষ্ট হতো। আর তাছাড়া বাসা পাশে হওয়ায় অনেক দূর্গন্ধও আসতো কিন্তু আজ সকালে হঠাৎ দেখি ময়লাও নেই আর রাস্তার পাশের কাঁচাবাজারের দোকানও নেই। তাই খুব শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছি।’

দ্বিগুবাবুর বাজারে কাঁচাবাজার কেনার পর বাড়ি ফেরার পথে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই এখান থেকে বাজার করি। এখান থেকে বাজার করা খুব বিরক্তিকর ছিল। রাস্তা নোংরা হবার কারণে রিকশা ভাড়াও বেশি দিতে হতো। হাত থেকে সবজি পড়ে গেলে তোলার মতো অবস্থা থাকতো না; এমন অবস্থা ছিল। কিন্তু এখন চলাফেরায় সুবিধা হয়। আজ বাজার করে ভালো লাগছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুনেছি পুলিশ গতকাল রাতে সব দোকান তুলে দিয়েছে। এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ।’

প্রসঙ্গত, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে ইতিমধ্যে বেশ প্রশংসিত এসপি হারুন অর রশীদ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ