শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯

মা দিবসে রত্নগর্ভা মায়ের গল্প

রবিবার, ১৩ মে ২০১৮, ১৩:১৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: একটি সম্পর্ক, একটি ডাক ‘মা’। শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর প্রথম মা ডাকে তার অস্তিত্ব জানান দেয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তৈরী হয় এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। তাই প্রতিটি সন্তানের কাছে মা পরম আরাধ্য।

রবিবার (১৩ মে) মা দিবসে আমরা বলবো তেমনি এক রত্নগর্ভা মায়ের গল্প। তাঁর নাম সালমা বেগম । ৬৫ বছর বয়সে এসেও একজন প্রানবন্ত আর শক্তিমান আদর্শের প্রতিক সালমা বেগম। সন্তানদের জন্যে রান্না করতে পছন্দ করেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে, নানা ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে একত্রিত রাখতে তৎপর তিনি। 

স্বামী মোঃ নুরুল ইসলাম একজন সরকারি কর্মকর্তা। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও নিজেকে রেখেছেন আড়ালে। বাঙালী জাতির সবচেয়ে ক্রান্তিকালে তাঁর অবদানকে কাগজি সার্টিফিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে ছিলেন নারাজ। পিতার এই আদর্শকেই নিষ্ঠা আর ভালবাসায় সন্তানদের মাঝে ছড়িয়েছেন যিনি, তিনি এই সালমা বেগম। চার সন্তানের গর্বিত জননী তিনি। দুই ছেলে আর দুই মেয়েকে দিয়েছেন মানুষ হওয়ার শিক্ষা। প্রথম সন্তান মোস্তফা সাইফুল ইসলাম বাদল, দ্বিতীয় সন্তান মাহমুদা বেগম মালা, তৃতীয় সন্তান মুর্তজা শরিফুল ইসলাম, চতুর্থ এবং সর্বকনিষ্ঠ সন্তান রওনক জাহান।

চার সন্তানের প্রত্যেকেই দেশের ও বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপিঠ থেকে কৃতিত্বের সহিত শিক্ষা জীবন শেষ করেছন। বর্তমানেও প্রত্যকে স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত। বড় সন্তান মোস্তফা সাইফুল ইসলাম বাদল পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যান বিভাগে । বর্তমানে অধ্যাপনা করছেন সানারপাড় রওশন আরা ডিগ্রি কলেজে। দ্বিতীয় সন্তান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম জনপ্রিয় নেতৃত্ব মাহমুদা বেগম মালা, যিনি সর্বজন পরিচিত মাহমুদা মালা নামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করলেও, পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন আইন পেশাকে। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। পাশাপশি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছাত্র জীবনে ছিলেন তুখোড় বিতার্কিক, জাতীয় পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজকে বিতর্কে ৫ বার নেতৃত্ব দেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।এছাড়াও ছাত্র জীবনে অভিনয় এবং আবৃত্তিতে পেয়েছেন একাধিক জাতীয় পুরষ্কার। তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী। পরম আদরে যার নাম রেখেছেন শ্রাবস্তি সুহাসিনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে অধ্যায়ণরত। সালমা বেগমের তৃতীয় সন্তান মুর্তজা শরিফুল ইসলাম। ২২তম বিসিএস ক্যডার, কর্মরত আছেন রাজস্ব বিভাগে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে। ১৯৯০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৭ম স্থান করেছিলেন। ইংল্যন্ডের গ্রিন ইউনির্ভাসিটি থেকে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। মুর্তজা মাহথির ইসলাম ও মুর্তজা মুফতাদি ইসলাম পূর্ণ এই দুই সন্তানের পিতা। এরা দুজনেই জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত দাবাড়ু। সর্বকনিষ্ট সন্তান ড. রওনক জাহান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে আছেন নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপিঠ সরকারি তোলারাম কলেজে। তাঁর একমাত্র পুত্র তথাগত মহর্ষি নিসর্গ তবলা বাদক। পাশাপশি পছন্দ করেন কবিতা লিখতে। 

জীবনের এতগুলো সময় পেরিয়ে সন্তানদের কাছে থেকে প্রাপ্তির কথা জিজ্ঞেস করলে এক কথায় উত্তর দিলেন এই রত্নগর্ভা মা। বললেন, আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছে আমার সন্তানেরা। সন্তানদেরকে যেই নিষ্ঠা, সততা আর সময়ানুবর্তিতার শিক্ষা দিয়েছি। তা আমার সন্তানেরা ব্যক্তি জীবন এবং পেশাগত জীবনে পালন করেছে নিষ্ঠার সাথে। প্রত্যেকে এখন স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। এর থেকে গর্বের আর কি হতে পারে। এই মা দিবসে প্রত্যেক মায়েদের বলবো, সন্তানদের স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। দেশের জন্যে কিছু করার মত সক্ষমতা যেন তারা অর্জন করে।

সালমা বেগমের সন্তান এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ মাহমুদা মালা মায়ের সম্পর্কে বলেন, মা কথাটা উচ্চারিত হলে এক সাহসী, দৃঢ়চিত্ত, ধৈর্যশীল ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে চোখের সামনে। আমার বাবা আমার রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরণা, আর মা সাহসী হতে শেখান। মায়ের কাছে ছোট বেলায় সবচেয়ে বেশ বকা খেতাম আমারা সব ভাই বোনরো সময়ানুবর্তিতার জন্যে। সময়ের কাজ সময়ে করতে ভালবাসতেন মা। সময় পেলে এখনো মা কে সময় দিই। আমার বাবা ছিলেন আকাশের মত আর মা সূর্য। আর আমরা তার আলোকচ্ছটা।

এবারের মা দিবসে প্রেস নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে এই রত্নগর্ভা মাকে জানাই স্বশ্রদ্ধ শ্রদ্ধা। 

 

সব খবর