বুধবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

মায়ের মুখ আর দেখা হলো না মাদরাসা ছাত্র আবু তালেবের

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৪৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার আবাসিক সুলতানিয়া তাহফিজুল কুরআনিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল আবু তালেব আকাশ (১৪)। কুরআন মজিদের ২১ পারার হাফেজ ছিল সে। দুইদিন আগেও মা যখন মাদরাসায় দেখা করতে আসছিল তখন মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করেছিল, আবার কবে আইবা? মা বলছিল, আগামী সপ্তহের সোমবার কিংবা মঙ্গলবার আবার আসমু। কিন্তু সেই মায়ের মুখ আর দেখা হলো না আবু তালেবের।

গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসার টয়লেট থেকে আবু তালেবের লাশ উদ্ধার করা হয়। মাদরাসার পরিচালক ও অধ্যক্ষের হাফেজ মাওলানা আব্দুল নোমান জানান, মাদরাসার বাথরুমে আবু তালেবের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে কথা হয় বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাবায় একদম হাসি-খুশি ছিল। কিছুদিন আগেও তো ঈদের ছুটি কাটাইয়া আইছে। গত রবিবারও ওর মায় ওর সাথে দেখা কইরা গেছে। মাদরাসার বেতন-টেতন দিয়া ওরে খাবার-দাবারও দিয়া আইছিল। হের মারে কইছে মা আবার কবে আইবা? মায় কইছে, মঙ্গলবারে বা সোমবারে আমু নে। চুলডি বড় হইয়া গেছে, আইয়া চুল কাটাইয়া দিমু নে। মারতে চাইয়া কয়ডা ট্যাকাও চাইয়া নিছে। হের মন খারাপ হইলে তো কইতো, মা আমার মনডা ভালো না আমারে লইয়া যাও। হেইডা তো কয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে মাইরাই ফালাইছে। পুলিশ তো এখন একটা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করছে। তবে আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে যদি কোন উল্টা-পাল্টা পাই তাহলেই আমরা মামলা করবো।’

ছেলের শোকে বুক চাপড়াতে-চাপড়াতে সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমার বাবায় ২১ পারার হাফেজ হইয়া গেছিলো। কতো স্বপ্ন আছিল আমার বুকটার মধ্যে। আল্লাহ! কেন এমন হইলো। আমার সব স্বপ্ন শ্যাষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষক তো ভালোই মনে করছি। কিন্তু কতটুক ভালো তাতো এহন টের পাইতাছি। পরকালের চিন্তা কইরা মাদরাসায় দিসিলাম। কে না চায় পোলারে দ্বিনী শিক্ষা দিতে। ছাত্রও ভালো ছিল। লগের পোলাগোরে শিখাইয়ে দিছে। ফেসবুকে দেখলাম কিসব ভূত-প্রেতের কথা বলছে। আমি কখনো ভয় দেখাইলে আমার পোলায় আমারে কইতো, বাবা, ভূত বলতে কিছু নাই। আমি কোরআন পড়ি আমার লগে কি ভূত আইতে পারবো? হেয় বলে ভেতরে ভূত দেখছে, এইসব নাকি সাংবাদিকগোরে কইছে।’

এমন সময় পাশে বসা জাহাঙ্গীর হোসেনের এক আত্মীয় বলে ওঠেন, ‘আমার ছেলেও মাদরাসায় পড়ে। এখন তো আমাদেরও ভয় লাগতাছে। মাদরাসায় এখন অনেক দুর্নীতি হইতাছে।’

প্রসঙ্গত, নিহত আবু তালেব রূপগঞ্জের গন্ধবপুর উত্তরপাড়া এলাকার সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। কোরআনের ২১ পারার হাফেজ আবু তালেব মাদরাসাটির হেফজ বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ