সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের ওপর ডিসির ক্ষোভ (ভিডিওসহ)

বুধবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৫১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত ও বাধ্য করে, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় কলেজ অধ্যক্ষ বেদৌড়া বিনতে হাবীবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় কলেজের দেড় হাজার শিক্ষার্থী একটি স্মারকলিপি নিয়ে বিশাল র‍্যালি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবিগুলো জানালে জেলা প্রশাসক তাদের উপর ক্ষুব্ধ হন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ৪জন শিক্ষক ও রোবার স্কাউটের ইউনিফর্মে স্কাউট সদস্যরা। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের কয়েক সদস্য।

জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষার্থীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পাশে জয়নাল প্লাজার মালিক মো. জয়নাল আবেদীনের ব্যক্তিগত ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত জমিটি পড়ে ছিল। যেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের বাসার স্থান তৈরী করেছে। তবে সম্প্রতি মো. জয়নাল আবেদীন সেখানে একটি কিন্ডারগার্টেন করতে চান। তাই তিনি তার জমি দখলে নেয়ার জন্য টিনের বেড়া দেন। কিন্তু এতে কলেজটির অধ্যক্ষ বাধা দেন। তাই মো. জয়নাল আবেদীন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌড়া বিনতে হাবীবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়া হোক। এবং জায়গাটি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হোক।

শিক্ষার্থীদের সব কথা ও দাবি শোনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এটা তো শিক্ষার্থীদের সমস্যা না, এটা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা। প্রতিষ্ঠানকে আমাদের কাছে আসা উচিত, শিক্ষার্থীদের নয়। কলেজের অধ্যক্ষ আগে আসবেন। তারপর যদি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তাহলে তো শেষ। আমার দেড় হাজার শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামালো কেনো?

ডিসি বলেন, যদি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সে আসবে। প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা প্রতিষ্ঠান দেখবে, আমরা দেখবো। তোমরা কেনো এ প্রশ্নগুলো তুলছো? এ প্রশ্নগুলো তোমাদের শিক্ষকদের ও প্রতিষ্ঠানের করা উচিত। তারা আসবে, আমাদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলবে। তোমরা এখানে কেনো? তোমারা যে এতোটা পথ পার করে আসলে। তোমাদের সঙ্গে যে কোনো দুর্ঘটনা হতে পারতো। সামনে নির্বাচন, যে কেউ তোমাদের মাঝে সমস্যা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারতো। কখনো কাউকে নিজেকে ব্যবহার হতে দেবে না। তোমরা এসেছো, ওকে ফাইন। তোমরা স্মারক লিপি দিয়ে যাও। এরপর থেকে সচেতন হবা। এমন কোনো কাজে যাওয়ার আগে অভিভাবকদের পরামর্শ নিবা আর লেখাপড়ার প্রতি আরো মনোযোগী হও।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ