রবিবার ১৬ মে, ২০২১

মসজিদের মুয়াজ্জিনকে কাউন্সিলর হাসানের ভাইয়ের মারধর

বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১, ১১:৫৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে মারধর করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানের ছোট ভাই৷ বুধবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মারধরের শিকার মুয়াজ্জিনের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে শিমরাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা দ্বীন ইসলাম। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টারের ছেলে এবং নাসিক কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানের ছোট ভাই আতিকুল হক হাসিব সন্ধ্যা ৭টার দিকে মসজিদের সামনে গিয়ে মুয়াজ্জিন দ্বীন ইসলামকে বেধরক মারধর করেন। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মসজিদ কমিটির লোকজনকে নিয়ে রাতেই বৈঠকে বসেন মতিন মাষ্টার। বাবা প্রভাবশালী ও ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ায় ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলাম না। মুয়াজ্জিন মোবাইল ফোনে আমাকে জানায় সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুল মতিন মাষ্টারকে ‘সাহেব’ না বলায় তার ছেলে মারধর করেছে। প্রকাশ্যে রাস্তায় একজন মুয়াজ্জিনকে এভাবে মারধর করা কোনো ভালো মানুষের কাজ নয়। সাহেব না বলার কারণেই মারধর করা হয়েছে বলে জানতে পারি।

মারধরের কারণ জানতে আতিকুল হক হাসিবের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার বাবা আব্দুল মতিন মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন৷ মুয়াজ্জিনকে তার ছোট ভাই কয়েকটি চর-থাপ্পর দিয়েছে বলে জানান তিনি৷ কাউন্সিলর হাসান বলেন, ‘মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে আমার বাবাকে নাম ধরে সম্বোধন করছিল মুয়াজ্জিন৷ একজন মুরুব্বি মানুষ যিনি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তাকে নাম ধরে ডাকাটা অপমানসূচক৷ এতে ক্ষেপে গিয়ে আমার ভাই তাকে দুয়েকটা চর-থাপ্পড় দিয়েছে৷ ঘটনা শুনে আমার বাবাও সেখানে গিয়েছিল৷ পরে মসজিদ কমিটির লোকজনের সাথে কথা বলেছেন এবং সমাধানের জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন৷’

কাউন্সিলর হাসান আরও বলেন, ‘আমি কাউন্সিলর না হলে মুয়াজ্জিনকে মাইরা হাত-পা ভাইঙ্গা ফালাইতাম৷ কাউন্সিলর হওয়ার কারণে আমি যেহেতু শপথ করছি যে, আমি কখনও আবেগের বশবর্তী হইতে পারবো না, নিজে রাগের বশে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না, কেবল সে কারণে আমি এখনও চুপ-চাপ আছি৷ কারও বাবাকে অপমান করলে ছেলে অবশ্যই প্রতিবাদ করবে৷’

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ভীত হয়ে পড়েছেন মারধরের শিকার মসজিদের মুয়াজ্জিন দ্বীন ইসলাম৷ তিনি ঝামেলা এড়াতে গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে সংবাদ না করার জন্যও অনুরোধ করেন৷

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ