শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

মসজিদের ভেতরে আ’লীগ নেতার ছেলের তান্ডব চালানোর অভিযোগ

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী কবরস্থান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভেতর হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জুমার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মজুর অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমানের ছেলে ও তার লোকজন মফিজুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মুজিবুর রহমান বলছেন, মফিজুল ইসলাম ও তার লোকজন তার হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নিয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন।

মসজিদের একাধিক মুসল্লি জানান, খুতবার আগে মসজিদের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান। এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মজু সভাপতির বক্তব্য শেষে দিতে বলেন। এ নিয়ে মসজিদের ভেতর হৈ-চৈ শুরু হয়। পরে বিষয়টি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এ সময় মসজিদের মুসুল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মসজিদের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সভাপতি মজিবুর রহমান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে, ভাতিজা ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমার উপরে হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেয় মজিবুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান পাপ্পু, মাহবুব, মাহমুদ, ভাতিজা জাহাঙ্গীর, বাদল মেম্বার, নাতি মুন্না ও টাইগার ফারুকের সন্ত্রাসী বাহিনী।’

তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর ক্রয়ের জন্য মুসল্লিদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা তোলা হয়। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান অনুমতি না দেয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তার কারণে আরো কয়েকটি উন্নয়ণমূলক কাজ বন্ধ রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে মুসল্লিদের সাথে বিভিন্ন সময় কমিটির লোকজনদের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। আমি প্রকৃত ঘটনাটি সভাপতির বক্তব্যের পর বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে কথা বলতে সুযোগ না দিয়ে উল্টো মসজিদের ভিতরেই আমাকে মারধর করে।’

এদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘মফিজুল ইসলামের ভাই মনির জাল দলিল করে একটি জমি হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। আমি ওই জমির বিষয়ে বাধা দিলে তারা আমার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জের ধরে মসজিদে আমি বক্তব্য দেওয়ার সময় আমার মাইক কেড়ে নিয়ে আমার উপর তেড়ে আসে। আমার ছেলে কিছুই করেনি। উল্টো তারা আমাকে মারতে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করতেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের খারাপ রেকর্ড নাই। তারা নিজেরাই হৈ-চৈ করে আমাকে মারতে এসেছিল। উল্টো এখন সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করতেছে।’

রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুঠোফোনে কথা হলে মজিবুর রহমান জানান, তিনি এই মুহুর্তে থানায় আছেন। তার উপর হামলার অভিযোগে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন।

এ বিষয়ে জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, মজিবুর রহমান থানায় এসেছেন। তিনি লিখিত দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ