বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০

মসজিদগুলোতে মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা (ভিডিওসহ)

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০, ২০:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সরকারি নির্দেশনা মানছেন না মুসুল্লিরা। মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ করায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে অনেকগুলো এলাকায়। করোনা ঝুঁকি নিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করছেন তারা।

 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মাগরিবের সময় নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সোনাকান্দা কেল্লা মসজিদে দেখা যায় প্রায় দুইশ’ মানুষ জামাতের সাথে নামাজ আদায় করছেন। যদিও নির্দেশনা রয়েছে কেবল মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনদের অনধিক পাঁচজন মসজিদ চালু রাখতে কেবল নামাজ আদায় করতে পারবেন।

করোনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ডেঞ্জার জোনে রয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। রাজধানী ঢাকার পরেই নারায়ণগঞ্জের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। এমন পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদর ও বন্দর উপজেলার মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ আদায় করা যাবে না। এরপর ৬ এপ্রিল ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশের মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মুসল্লিদের পাঁচ ওয়াক্তের ও জুমার নামাজ ঘরে পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। বাইরের কেউ নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসতে পারবেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ জাকির হোসাইন বলেন, ৫ এপ্রিল রাত থেকেই ডিসি সাহেবের নির্দেশে সদর উপজেলার মসজিদগুলোতে জামাত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশেই এই নির্দেশ আসছে সে অনুযায়ী পুরো জেলাতেই একই নির্দেশনা থাকবে।

কিছু মসজিদে এখনও জামাত হচ্ছে এমনটা জানালে তিনি বলেন, আমিও খবর পেয়েছি এমনটা। আসলে অনেকেই মানতে চায় না। তবে যেহেতু জাতীয়ভাবে ঘোষণা এসেছে এখন থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সবগুলো মসজিদে জানিয়ে দিয়েছি। তারপরও তারা মানতে চায় না। বারবার বলার পরও যখন মানুষ সচেতন না হয় তখন আমাদের কিছু করার থাকে না। তারপরও আমরা তাদেরকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ