শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

মন্ত্রীর সুপারিশে আসামিকে ছেড়ে দিলেন ওসি

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

আসামি রাসেল

আসামি রাসেল

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে প্রেরণ না করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক মন্ত্রীর ফোনে দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান।

মামলার আসামির নাম- রূপগঞ্জের ইছাখালি তেমোড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে রাসেল (৩৫)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জের মাজিনা নদীন পাড়ে অবস্থিত করিম এ্যাসফল্ট এন্ড রেডিমিক্স কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার গোলাম রসূল সিহাবের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামি রাসেল। টাকা না দিলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাসেল ও তার সহযোগি রাসেল ভূইয়া (৩০), ওমর ফারুক ভূইয়া (২৬), আশিক ইকবাল (৩০), বাবুসহ (২৫) অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রসহ অফিসে এসে ম্যানেজার গোলাম রসূলকে মারধর করেন। পরে তার ডাক-চিৎকারে লোকজন আসলে আসামিরা বলে, এই এলাকায় ফ্যাক্টরি চালাতে হলে চাঁদা দিয়ে চালাতে হবে। অন্যথায় ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় গত শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিবি ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মাজিনা এলাকা থেকে প্রধান আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে আসামিকে আদালতে পাঠানোর কথা থাকলেও থানার ওসি মাহমুদুল হাসান তাকে আদালতে পাঠাননি। পরে দুপুর বারোটার দিকে এক মন্ত্রীর সুপারিশে আসামিকে ছেড়ে দেন তিনি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি। প্রেস নারায়ণগঞ্জকে ওসি বলেন, ‘আসামিকে গ্রেফতারই তো করা হয়নি। গ্রেফতার না হলে ছেড়ে দেওয়ার কথা আসে কীভাবে! আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি ডিবি আটক করেছিল। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাদের কাছে আটক হয়নি।’

তবে এ বিষয়ে ডিবির পরিদর্শক এনামুল হক জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি মূলত রূপগঞ্জের বিষয়টি দেখেন না। তার টিম সদর ও ফতুল্লার বিষয়টি দেখেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। আমি খোঁজ নিচ্ছি। এমন কোন বিষয় থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ