বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯

মন্ত্রীর পায়ে ধরা শামীম ওসমানের সেই সড়কের অনুমোদন

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ‘চাষাঢ়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড মহাসড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর পায়েও পর্যন্ত ধরেছিলেন তিনি। অবশেষে শামীম ওসমানের স্বপ্নের সেই মহাসড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে। ১১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে এই মহাসড়ক।

দীর্ঘ দিন বিভিন্ন দপ্তরে ও মন্ত্রনালয়ে ফাইল চালাচালির মধ্যে বন্দি ছিলো এই সড়কের নির্মাণ কাজ। অবশেষে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এই ‘চাষাঢ়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড মহাসড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এই অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে দূর হলো সকল বাধা। এখন কেবল নির্মাণ কাজ শুরুর অপেক্ষা। এই সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে শামীম ওসমানের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

সড়কটি নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর পায়েও ধরেছিলেন শামীম ওসমান। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাড়িয়ে এই কথা জানিয়েছিলেন খোদ সাংসদ শামীম ওসমান। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই কথা বলেন। সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সংসদে বলেন, ‘তিন বছর চেষ্টা করে চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে পারিনি। রাস্তাটি আগে রেলওয়ের ছিলো। রেলওয়ের কাছ থেকে অবমুক্ত করতে দুই বছর সময় লেগেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজে সেখানে গিয়েছেন। তিনি রেলমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ওই রাস্তাটির কাজ দ্রুত শুরু হবে। মন্ত্রী ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। ডিপিপিতে কিছু ত্রুটি থাকায় পরিকল্পনা কমিশন সেটি ফেরত দিয়েছিলো। ত্রুটি সংশোধন করে আবারো পরিকল্পনা মন্ত্রণালায়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি ৪ থেকে ৫ মাস হয়ে গেছে। এরপর আমি পরিকল্পনা মন্ত্রীর পায়ে ধরে অনুরোধ করেছি। তার পায়ে ধরতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি। কারণ আমি তার পা ধরেছি জনগণের জন্য। তারপরও কাজ হয়নি, এখন আমার করণীয় কী?’

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সড়কটির অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেকের সভায় এই অনুমোদন দেন তিনি। শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ)। মহাসড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে। ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি নির্মিত হলে আদমজী-ইপিজেড থেকে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন সরাসরি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে মিলিত হবে। এই বিশাল জনপদে যোগাযোগের জন্য এটিই হবে মূল সড়ক। এতে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। ২০২১ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানা যায়।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ