সোমবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি, এটাই আমাদের বিজয়: ইকবাল বাহার

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ শাখার ভোট গ্রহন বৃহস্পতিবার। এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আলাদা এক আমেজ বিরাজ করছে। কারণ দীর্ঘদিন পর সরাসির ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের নেতা নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রার্থী। এবার নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি প্যানেলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ডা. ইকবাল বাহার। প্রেস নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি তার প্যানেলের নির্বাচনী কৌশল, ভোটারদের প্রতিক্রিয়া, বিজয়ী হলে বিএমএ সদস্যদের জন্য করনীয়সহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: ভোটারদের মাঝে আমেজ বা উচ্ছ্বাস কেমন?

ইকবার বাহার: আসলে ভোটাররা ভাবতেই পারেননি যে তারা আবার ভোট দিতে পারবে। আমাদের থেকে সিনিয়র ডাক্তাররা বেশি আবেগ প্রবন হয়ে গেছে। এতগুলো বছর চেষ্টা করে বিভিন্ন হেনস্তার শিকার হয়ে (নির্বাচন যারা চেয়েছিল) নির্বাচন আনতে পেরেছে। সত্যি কথা বলতে বিএমএকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছিল, একচেটিয়ে করে ফেলেছিল। এবার যে ভোটাররা ভোট দিতে পারবে তাতেই তারা খুশি। আমরা যে ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি এটাই আমাদের বড় বিজয়। নতুন জেনারেশনের দাবী ধাওয়াগুলো এখন ফুটে উঠেছে ভাল করে।

প্রশ্ন: আর একদিন বাকি নির্বাচনের, ভোটারদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেলেন?

ইকবাল বাহার: আসলে সব ভোটাররা যে আমাদের ভোট দিবে তা না। প্রত্যেক চিকিৎসকের প্রোফাইল দেখবেন, প্রত্যেক চিকিৎসকই যোগ্য। তাদের মধ্যে যাকে বেশি যোগ্য মনে হবে সবাইকেই আমরা গ্রহণ করবো। যেহেতু তারা ভোটের মাধ্যমে জয়ী। যাদের কাছে আমরা গিয়েছি, তারা বেশির ভাগই আমাদের বেশি ফেবার করেছেন। কারণ আমাদের একটা প্রচেষ্টা ছিল- নির্বাচন চাওয়া। আপনাদের একটি খুশির সংবাদ জানাতে চাই, স্বাচিপ(স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) এর মাধ্যমে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ হওয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে। আমাদের শক্তিশালী একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে আমরা এই কাজগুলো খুব সহজ ভাবে করতে পারবো। তাই সবাই আমাদের এপ্রিশিয়েট করছে। নতুন জেনারেশনের কিছু প্ল্যানিং আছে, কিছু দাবী ধাওয়া আছে যেমন একটা বিএমএ ভবন দরকার, পড়াশুনার জন্য লাইব্রেরি দরকার, ডাক্তাররা বিভিন্ন প্রোগ্রাম বাহিরে গিয়ে করে, বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে করে, বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে যেতে হয়। আমাদের যদি একটা অডিটরিয়াম থাকে তাহলে এই কাজগুলো এখানেই করা যাবে। বিভিন্ন সেমিনার আমরা এই অডিটরিয়ামেই করতে পারবো। এ জন্য জুনিয়রদের কাছ থেকে ভাল ভাবে সাড়া পাচ্ছি। তাছাড়া আমরা নারায়ণগঞ্জে যারা বিএমএ’র সদস্য আছি তাদের সবার মধ্যে এক ধরনের সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ সব সময় বজায় থাকে। দলমত নির্বিশেষে আমরা সাড়া পাচ্ছি। নিরদলীয় ভাবে সবাই আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে।

প্রশ্ন: নির্বাচনী পরিবেশ কেমন?

ইকবাল বাহার: নির্বাচন তো প্রায় ২৫ বছর পরে। তাই সবার মধ্যেই উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। আমার মতে ম্যাক্সিমাম ভোটার, মানে হচ্ছে ৯৫% ভোটার সবাই ভোট দিতে আসবে। আসলে এটা পেশাজীবীদের একটা প্ল্যাটফর্ম। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ডাক্তার ও রোগীরা দুই পক্ষেই লাভবান হবে। এবং কারযকরত কারনে শতঃস্বরফুত কারনে সবাই ভোট দিতে আসবে। সবাই খুব উৎসাহ বোধ করছে। উচ্ছাস উদ্দীপনা সম্মানিত ভোটারদের মধ্যে কাজ করছে।

প্রশ্ন: আপনার প্যানেলের প্রতিশ্রুতিগুলো কি কি?

ইকবাল বাহার: আমার প্যানেলের মূল যে প্রতিশ্রুতি সেটা হচ্ছে, চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা।

প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে বিএমএ’র সদস্যদের জন্য পরিকল্পনা কি?

ইকবাল বাহার: আসলে আমাদের নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসকরা সবাই বিএমএ’র সদস্য হয় নি। যারা সদস্য হয় নি তাদের সদস্য বানাতে হবে। আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হলো, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা খাতের মাধ্যমে বিএমএ’র অডিটরিয়াম ভবন তৈরি করা। আমাদের শহরে অনেক খাস জমি আছে সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে যেগুলো বিভিন্ন খাতে বহুতল ভবন নির্মাণ করার বিধান আছে। আমরা বিএমএ ভবনের জন্য এই রকম পরিকল্পনাই করছি। এবং ভোটারদের যাতে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এই অধিকারটুকুর ব্যবস্থা করছি। আমরা কেন্দ্রীয় বিএমএ’র সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন প্ল্যান তাদের কাছে পাঠাতে। প্রত্যেকটা জেলায় যেমন বিভিন্ন চিকিৎসা খাতের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র আছে তেমন যেন আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও দেয়া হয়। আগের কমিটিতে যারা ছিল ডাক্তার হয়েও ডাক্তারি করে না। তারা ক্লিনিকের ব্যবসা করে। আল্টিমেটলি তারা চাঁদাবাজি করে। ক্রিয়েটিভ কোন কিছু করার চিন্তা ভাবনা তাদের কখনোই ছিল না, এবং কি এখনো নেই। যাই হোক, ২য় পরিকল্পনা রয়েছে, বাংলাদেশে যে পরিমানে জনসংখ্যা বেড়েছে সেই পরিমান চিকিৎসক বাড়েনি। এই চিকিৎসক বাড়ানোর ব্যাপারটাও আমাদের রয়েছে।

প্রশ্ন: ২৫ বছর পর ভোটাররা সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন, বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

ইকবাল বাহার: এটা পজিটিভ সাইড। যারা নির্বাচিত হবেন তারা যা প্রতিশ্রুতি দিবে তা যদি ঠিকমতো না করতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে এটার ফল ভোগ করতে হবে। এতে করে বিএমএ গতিশীল হবে। প্রার্থীদেরও দায় বদ্ধতা থাকবে সদস্যদের প্রতি।

প্রশ্ন: একই দলের সমর্থিত হয়েও আপনারা দুটি প্যানেল কেন?

ইকবাল বাহার: দুটি প্যানেল আপনারা কিভাবে বলছেন? একটার তো মাথা নেই। আর যার মাথা নেই তার দেহ থাকবে কিভাবে? দেখেন আমাদের প্যানেলটি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ইকবাল আরসালান ও মহাসচিব প্রফেসর এম.এ আজিজ উনাদের মনোনয়ন নিয়েই নির্বাচন করছি। স্বাচিপের লগো ব্যবহার শুধুমাত্র আমরাই করছি। তারা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে একটা সমঝোতায় এসেছে। হিউজ টাকা আছে তাদের অবৈধ ভাবে। তাদের রোগীর সাথে কোন কানেকশন নেই। আমাদের প্যানেলের ২৩ জনের মধ্যে ২১ জনই সরকারি চাকরি করেন। আমাদের সম্পর্ক শুধু রোগীদের সাথে। আমি স্পষ্টত বলছি, তাদের প্যানেল স্বাচিপের নয়। স্বাচিপ হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন। কিন্তু এখানে কোন রাজনীতি নেই। স্বাচিপের প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রশ্ন: সদস্যদের উদ্দেশ্যে কোন বার্তা আছে আপনার?

ইকবাল বাহার: প্রত্যেকেই যেন কেন্দ্রে আসেন। আপনাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে ভোটাধিকারের চেষ্টা করুন। তা না হলে হয়তো আবার পরের বছর থেকে সিলেকশনই শুরু হয়ে যাবে।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইকবাল বাহার: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সব খবর
সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বশেষ