সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২০

ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে মহিলা কলেজের রোকেয়া ভাস্কর্য

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারী শিক্ষা ও জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। আগামীকাল মহর্ষী এই নারীর জন্মদিন। প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর মহর্ষী এই নারীর জন্মদিনটি পালিত হয় ‘রোকেয়া দিবস’ হিসেবে। সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই দিনটি। ২০০৭ সালে তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রফেসর মোস্তফা কামালের তত্বাবধানে কলা ভবনের সামেন স্থাপন করা হয়েছিল বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য। এরপর থেকেই প্রতিবছর রোকেয়া দিবসে জেলার বিভিন্ন সংগঠন এই মহর্ষী নারীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছিল। তবে এ বছর তা আর হচ্ছে না। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বেগম রোকেয়া ভাস্কর্য।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের কলা ভবনটি অনেক আগেই ঝূকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবনটির জায়গায় একটি ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় চলতি বছরের জুন মাসে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। কলা ভবনের সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে থাকা রোকেয়া ভাস্কর্যটিও ভেঙ্গে ফেলা হয়।

ভবনের কারণে রোকেয়া ভাস্কার্য ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টি মানতে নারাজ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তাদের মতে, ভবনের কারণে ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ হয়নি কলেজ কর্তপক্ষের। ভবনের সঙ্গে ভাস্কর্য ভাঙ্গার কোনো কারণ নেই। রোকেয়া ভাস্কার্যটি তেমন বড় ছিল না। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলেই ভাস্কর্যটি কলেজের যে কোনো জায়গায় স্থানান্তর করা যেত।

এ বিষয়ে রোকেয়া পাঠচক্রের একজন সংগঠক ফারহানা মানিক মুনা বলেন, ‘এটি খুবই লজ্জার বিষয় নারায়ণগঞ্জের কোনো কলেজেই শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানকারী ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য নেই। নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য মহিলা কলেজে ছিল কিন্তু তারাও অবহেলায়, অযত্নে এতদিন রেখেছে এবং শেষ পর্যন্ত এটা ভেঙ্গে ফেলা হয়। যার কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও তারা করেনি।’

মুনা আরো বলেন, ‘কলেজ থেকে রোকেয়া দিবস পালন তো দূরের কথা গতবছর যখন আমরা ফুল দিতে যাই আমাদের নানাভাবে বাধা দেয়া হয়। এছাড়া বেগম রোকেয়ার মত আরো যারা রয়েছেন তাদের জন্মদিন বা মৃত্যু বার্ষিকীতে কারো কোনো কর্মসূচি থাকে না। যার ফলে শিক্ষার্থীসহ সবাই তাদের ভুলে যাচ্ছে। আমাদের অনুরোধ থাকবে জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন এই দিবসগুলো যথার্থভাবে পালন করবে। কেননা আমরা করতে গেলে আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

ছাত্রফ্রন্ট জেলা সভাপতি সুলতানা আক্তার বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা মহিলা কলেজের রোকেয়া ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। তবে এ বছর তা আর পারছি না। কেননা কলেজ কর্তৃপক্ষ ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে ফেলেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলেই ভাস্কর্যটি কলেজের অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারতো কিন্তু তারা তা করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে নতুন ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভাস্কর্য তৈরি করা হবে। আমরা সবাই জানি, সরকারি ভবন নির্মাণে অনেক সময় লাগে। তার উপর ১০ তলা ভবন। এই ভবনটি কবে না কবে হবে, তাও আমরা জানিনা। কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিল, যতদিন না নতুন ভাস্কর্য তৈরি হচ্ছে পুরনো ভাস্কর্যটি সংরক্ষণ করা। কিন্তু তারা তা করেনি।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ দাবিউর রহমান বলেন, ‘কলা ভবনের সামনে বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য ছিল। তবে সেটা তেমন ভালো মানের ছিল না। আর দীর্ঘদিনের হওয়ায় ভাস্কর্যটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্রায়। ফলে কলা ভবনটি যখন ভাঙ্গা হয় তখন ভাস্কর্যটিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভবন নির্মাণের কাজের সময় এমনিতে ভাস্কর্যটি ভাঙ্গতেই হতো। তবে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আমরা আরেকটি রোকেয়া ভাস্কর্য নির্মাণ করবো। যা গত ভাস্কর্যের তুলনায় ভালো মানের হবে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ