শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

ভাষার জন্য শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেলো সনু রানীর

রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২০:২২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

আফসানা আক্তার (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): ভাষার জন্য শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের সনু রানী দাস। নিজের পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠলো না। প্রতিভাবান এই নারীর প্রতিভা শুধু কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের টিউশন দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। এরই সাথে অন্ধকারাচ্ছন্ন হরিজন সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ সেই অন্ধকারেই পরে রইল।

টানবাজার সুইপার কলোনির ফার্স্ট গ্র্যাজুয়েট (প্রথম স্নাতক) সনু রানী দাস। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও হাজার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে স্কুল থেকে কলেজ ও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পৌছেছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে। এক সময় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে পাড়ি জমান সুদূর বিদেশে। প্রথমে স্কটল্যান্ডে গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ঐ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনু সেখানে ছিলেন তিন মাস। এরপর তিনি জেনেভায় যান হিউম্যান রাইটসের এক সম্মেলনে অংশ নিতে। সেখানে ৭ মিনিটের এক ভাষণে তুলে ধরেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ে নারীদের অবস্থান।

এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে তার সাফল্য গাঁথা। দেশবাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন একজন আদর্শ নারী হিসেবে। যার থেকে অনুপ্রাণীত হন অনেকেই। একে একে দেশের জনপ্রিয় সব গণমাধ্যমে ফলাও করে তার সম্পর্কে লেখা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এক সময় ব্যাপক আলোচনায় ও সবার মধ্যমণি হয়ে থাকা সনু রানী ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে আসেন। তবে ভাষার জন্য শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তার সঙ্গ ছাড়ে না। স্বপ্নকে আকড়ে ধরে ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৭ জনের মধ্যে একজন হিসেবে পরীক্ষা দেন তিনি। তবে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৫৫ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে তার নাম আসেনি। ফলে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন, রাতের অন্ধকারে দেখা হাজার স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যায়।

সনু রানী বলেন, ‘বর্তমানে আমি সম্পূর্ণ বেকার। এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। এত কিছু করে কি হয়েছে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কি লাভ হলো। আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েই বা কি করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বস্তির কাউকে তাদের সন্তানের শিক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারি না। এক সময় আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া মানুষগুলো এখন আমার উদাহরণ দিয়েই নিজেদের সন্তানদের শিক্ষা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়। আমি মাথা নিচু করে শুনেই যাই। আমি শিক্ষক হতে পারেনি তার আক্ষেপ তো থাকবেই তবে তার থেকে বেশি হতাশাজন হচ্ছে আমার এই সম্প্রদায় ভবিষ্যৎ। আগামী এক যুগেও এই সম্প্রদায়ের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সম্প্রদায়ের মানুষগুলো যেমন পিছিয়ে ছিল তেমনি থাকবে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ