সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

ভারতে ফেনীর পানি বন্টন ও গ্যাস রপ্তানি চুক্তি প্রত্যাখান গণসংহতির

রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সঙ্কট চলছে। সরকার গ্যাস সঙ্কটের কারণে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে না। সরকারের বয়ান মতে, গ্যাস স্বল্পতার কারণে ক্ষতিকর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দিল্লী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতে তরল গ্যাস রপ্তানির চুক্তি করেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যা চূড়ান্তভাবে দেশের স্বার্থবিরোধী।

রোববার (৬ অক্টোবর) বেলা ২টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয় অঞ্জন দাস, রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড , দপ্তর সম্পাদক পপি রানি সরকার এক যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অন্য কোনো দেশের অনুপ্রবেশ তেমন নেই। তাহলে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারিতে সহযোগিতার নামে যে চুক্তি সেটার আসলে অর্থ কী? ভারতের ফাঁরাক্কা বাঁধের স্লুইচ গেট খুলে আকস্মিকভাবে পানি ছেড়ে দেয়ায় এখন কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলা পানিবন্দী। সেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের এই আচরণ বর্বর-অমানবিক এবং একই সাথে আঞ্চলিক মাতব্বরির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এটা বাংলাদেশের ওপর এক ধরণের আগ্রাসন। চলমান এই পরিস্থিতিতে ফেনী নদীর পানি ভারতের সাথে বন্টনের সিদ্ধান্ত চরমভাবে জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তিস্তাসহ অভিন্ন সকল নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না অথচ দেশের মানুষের কথা বিবেচনা না করে, দেশের স্বার্থ জ্বলাঞ্জলি দিয়ে, শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দলীয় স্বার্থে একের পর এক ভারতের কাছে নতজানু নীতিতে চুক্তি করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এর আগে ২০০২ সালে সিলেটের বিবিয়না থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতে গ্যাস রপ্তানির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত রুখে দিয়েছে। এখনও আমরা কোনোভাবেই গ্যাস রপ্তানির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করছি না। অবিলম্বেই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।

জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বলেন, জনসমর্থন নিয়ে নয়, ভোটাধিকার হরণ করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসীন থাকাটা বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের সরকারগুলোও একই কাজ করেছে। অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লী সফরের ঘটনা সেটারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভারত তোষণ করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে তাই দেশের গ্যাস, নদীর পানি বা জাতীয় স্বার্থ আওয়ামী সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভারতের কূটনৈতিক কৌশল ও শোষণনীতির কাছে সরকার স্বেচ্ছায় বারবার পরাজিত হচ্ছে। সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে ছাড় দেয়া চলবে না। উপকূলে ভারতের নজরদারি, ভারতে ফেনী নদীর পানি বন্টন ও গ্যাস রপ্তানিসহ সকল অসম চুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারিতে ভারতের সহযোগিতা” চুক্তি বাস্তবত ভারতের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নয় কি? এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জলসীমানা আরো অরক্ষিত হয়ে পড়বে। আমরা মনে করি, বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি হবে ভারসাম্যপূর্ণ, সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। কিন্তু দিল্লী সফরে যেসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলোর কোনোটাই আদতে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করে নি। উপরন্তু এই সফরের মাধ্যমে ভারত তোষণ ও নতজানু পররাষ্ট্র নীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সুতরাং সচেতন জনসাধারণকেই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থবিরোধী সকল তৎপরতা ও চুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস বলেন, ভারতীয় এনটিপিসি কোম্পানির সাথে প্রাণ-প্রকৃতি ও সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া, ভারত কর্তৃক অভিন্ন সকল নদীতে বাঁধ দেয়া, ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি, গ্যাস রপ্তানির চুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। এগুলো শাসকগোষ্ঠীর তোষণনীতি ও ভারতের প্রতি দাসত্বের চিহ্ন। শুধু ভারতের সাথেই নয়, রাশিয়া, আমেরিকা, চীনের সাথে একইভাবে বিভিন্ন চুক্তি করে দেশের সম্পদ ও ভবিষ্যৎকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতেই বারবার চুক্তির নামে জাতীয় স্বার্থ জ্বলাঞ্জলি দিচ্ছে সরকার। আমরা গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে দখলদার ভরতের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের জনসাধারনকে এই সকল অন্যায্য চুক্তি ও সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে সরকারের ভারত তোষণ ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানানো উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ