সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

ভারতের কাছে গ্যাস রপ্তানি প্রতিহত করার ঘোষণা ছাত্র ফেডারেশনের

রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ভারতের কাছে গ্যাস রপ্তানি চুক্তির বিরোধীতা করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা ছাত্র ফেডারেশন। রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪দিনের ভারত সফর শেষ করেন। সফরের শেষ দিনে দুই দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে গ্যাস রপ্তানির মতো জনবিরোধী চুক্তিও। অথচ, গ্যাস সঙ্কটের কারণে গত ১০ বছরে ৯বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। গ্যাস স্বল্পতার কারণে ক্ষতিকর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দিল্লী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতে তরল গ্যাস রপ্তানির এই চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের কাছে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যা চূড়ান্তভাবে দেশের স্বার্থবিরোধী।

তারা আরও বলেন, ভারতের ফাঁরাক্কা বাঁধের সুইচ গেট খুলে আকস্মিকভাবে পানি ছেড়ে দেয়ায় বাংলাদেশের কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলা পানিবন্দী, কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। চলমান এই পরিস্থিতিতে ফেনী নদীর পানি ভারতের সাথে বন্টনের সিদ্ধান্ত চরমভাবে জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তিস্তাসহ অভিন্ন সকল নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না অথচ দেশের মানুষের কথা বিবেচনা না করে, দেশের স্বার্থ জ্বলাঞ্জলি দিয়ে, শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দলীয় স্বার্থে একের পর এক ভারতের কাছে নতজানু নীতিতে চুক্তি করে যাচ্ছে সরকার। এছাড়াও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারিতে সহযোগিতার নামে করা চুক্তিটি সম্পূর্নভাবেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকিসরূপ।

জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি শুভ দেব বলেন, জনসমর্থন নিয়ে নয়, ভোটাধিকার হরণ করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসীন থাকাটা বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের সরকারগুলোও একই কাজ করেছে।ভারতীয় এনটিপিসি কোম্পানির সাথে প্রাণ-প্রকৃতি ও সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া, ভারত কর্তৃক অভিন্ন সকল নদীতে বাঁধ দেয়া, ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি, গ্যাস রপ্তানির চুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। এগুলো শাসকগোষ্ঠীর তোষণনীতি ও ভারতের প্রতি দাসত্বের চিহ্ন। শুধু ভারতের সাথেই নয়, রাশিয়া, আমেরিকা, চীনের সাথে একইভাবে বিভিন্ন চুক্তি করে দেশের সম্পদ ও ভবিষ্যৎকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে ছাড় দেয়া চলবে না। উপকূলে ভারতের নজরদারি, ভারতে ফেনী নদীর পানি বন্টন ও গ্যাস রপ্তানিসহ সকল অসম চুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষায় এসকল অসম চুক্তি প্রতিহত করার জন্যে ছাত্র সমাজের কাছে সংগঠিত হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ