বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

ভায়রা থাপ্পর দেওয়াতে তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে আব্বাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: স্ত্রীকে প্রায় সময়ই মারধর করতো মাদকাসক্ত আব্বাস। এ ঘটনায় স্ত্রী শ্যালিকা ও ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী) সুমনের কাছে বিচার দিলে সুমন আব্বাসকে চর-থাপ্পড় দেয়। এই চর-থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাগ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন), তার দুই মেয়েকে নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে আব্বাস।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় ফতুল্লায় পুলিশ লাইনসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এর আগে বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের টেবিলের নিচে পালিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঘাতক মো. আব্বাস (৩২) পটুয়াখালী সদরের পইক্কা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জের বাতেনপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতো। পেশায় সে বাবুর্চি।

জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ঘাতক আব্বাস তার শালী, শালীর দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছে। এবং নিজের বাকপ্রতিবন্ধী আপন মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করেছে। সে এখন মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আব্বাসকে গ্রেফতার করবো। সে অনুযায়ী ঘটনার দুই-তিন ঘন্টার মধ্যে একটি কমিউনিটি সেন্টারের টেবিলের নিচ থেকে পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করি। সে পুরো ঘটনাই স্বীকার করেছে। সে একটা কথাই বলে, তার ভায়রা তাকে চর মারছিল। এটাই তার জিদ। সে একজন ইয়াবাসেবী। তার বিরুদ্ধে আমরা রিমান্ড আবেদন করবো। রিমান্ডে তার কাছ থেকে আরও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করবো।

এদিকে এ ঘটনায় নিহতরা হলো- মা নাজনীন (২৬), শিশু কন্যা নুসরাত (৮), খাদিজা (২)৷ নাজনীন সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা সুমনের স্ত্রী। সুমন সানারপাড় জোনাকি পেট্রোল পাম্পে চাকুরি করেন। এ ঘটনায় আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া (১৫) ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ