রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২০

আসামি সজলকে নিয়ে তৈমুরের ভাই হত্যার বিচার দাবি!

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নিজের ভাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে সাথে নিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীর ব়্যালি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার৷ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ছিল তৈমুর আলম খন্দকার ও নাসিক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকারের ভাই সাব্বির আলম খন্দকারের মৃত্যুবার্ষিকী৷ ১৭ বছর পূর্বে তাকে হত্যা করা হয়৷ কিন্তু হত্যা মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম সজলকে নিয়ে দুই ভাইকে ব়্যালি করতে দেখা গেছে৷ মনিরুল ইসলাম সজল বর্তমানে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক৷ সে সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি৷

মঙ্গলবার সকাল দশটায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সাব্বির আলম হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে ব়্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়৷ ব়্যালিতে সাব্বির আলমের দুই ভাই তৈমুর আলম ও খোরশেদসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন৷ একই সাথে সাব্বির হত্যা মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম সজলকেও দেখা গেছে মানববন্ধনে৷ এ নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা৷

অনেকে বলছেন, হত্যার ঘটনায় তৈমুর আলম নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন৷ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সজল৷ তাকেই সাথে নিয়েই আবার হত্যার বিচারের দাবি৷ বিষয়টি হাস্যকর৷

নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক ও সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন সাব্বির আলম খন্দকার৷

২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অনুষ্ঠানে প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতে সাব্বির আলম সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এর কয়েক দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে শহরের মাসদাইরে নিজ বাড়ির সামনের সড়কে খুন হন সাব্বির আলম খন্দকার। হত্যাকাণ্ডের বিচার ১৭ বছরেও হয়নি।

সাব্বির আলম হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর বড় ভাই জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তৈমুর আলম খন্দকার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের বিএনপিদলীয় তৎকালীন সাংসদ গিয়াসউদ্দিন, তাঁর শ্যালক জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, তাঁর ভাই জিকু খান ও মামুন খান, শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন, রায়হান, মনির, এরশাদ, মনিরুল ইসলাম সজল, অহিদুল ইসলাম ওরফে ছক্কু, সাঈদুর রহমান, সাঈদ হোসেন ওরফে রিপন, রিয়াজুল ইসলাম, হালিম, টুক্কু মিয়া, কাওসার, মামুন, নাদিম হোসেন, মঙ্গল ওরফে লিটন, মোক্তার হোসেন, মনিরুজ্জামান শাহীন, নাজির ও আ. আজিজকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর থেকে নয়জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। দশম তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মসিহউদ্দিন দীর্ঘ প্রায় ৩৪ মাস তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের সাবেক জেলা সভাপতি জাকির খান, তাঁর দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় গিয়াসউদ্দিন, তাঁর শ্যালক জুয়েল ও শাহীনকে। বর্তমানে মামলাটি নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারাধীন।

প্রধান আসামি গিয়াসউদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় বাদী তৈমুর আলম খন্দকার সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দাখিলকৃত চার্জশিটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৬ বছর টানা নারাজি দিয়ে অবশেষে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে নারাজি পিটিশনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ