মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯

ব্ল‌্যাকমেইল করে বিশের অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ, ২ শিক্ষক গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৬:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে আপত্তিকর ছবি তুলে বিশ জনের অধিক ছাত্রীকে ব্ল‌্যাক মেইল করে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ওই দুই শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষকের সাথে ছাত্রীদের আপত্তিকর একাধিক ছবি উদ্ধার করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী লম্পট ঐ দুই শিক্ষকের ফাঁসি দাবি করে র‌্যাব ও পুলিশের সামনে স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, এ শিক্ষকসহ এর পাশের আরেকটি স্কুলের এক লম্পট শিক্ষকসহ অন্যান্য লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করলে কোন লম্পট শিক্ষক এমন কাজ করার সাহস পাবে না।

এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম গত ৮ বছর ধরে স্কুলটিতে অংক ও ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছে। তার চাকুরী জীবনে আরিফুল ইসলাম অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল‌্যাকমেইল করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করে। ছাত্রীদের কোচিং পড়নোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ঐ ফ্ল্যাটে তিনটি খাট ছিল বলে জানায় ঐ ফ্ল্যাটের দারোয়ান। গত তিন দিন যাবৎ তার অনৈতিক কর্মকান্ডগুলো এলাকায় প্রচার হতে থাকে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐ স্কুলে গেলে আরিফুল ইসলাম তার মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে ফেলে। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ঐ মোবাইল উদ্ধার করে এলাকার একটি মোবাইল দোকানে একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ স্কুলে হামলা চালায়। এ সময় স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে সহযোগিতা করে আসছিল বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় ঐ শিক্ষকের কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হয়। ঐ মেয়ে এখন ৯ম শ্রেণিতে পড়ছে। এখনও লম্পট ঐ শিক্ষক থেকে রক্ষা পায়নি আমার সন্তান। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। গত ২-৩ দিন পূর্বে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুব সমাজকে বলেছি।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট্ট একটি কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। পরবর্তীতে ঐ স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কিনে নেয় সে। ৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে অংক ও ইংরেজির শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম।

অভিভাবকদের অভিযোগ, আরিফুলের বিভিন্ন অপরাধের সহযোগী ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। গত তিনমাস পূর্বে স্কুলের এক শিক্ষিকাকেও ঐ শিক্ষক যৌন হয়রাণি করেছে। ঐ শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক।

র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানায়, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার মোবাইল থেকে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীর সাথে ঐ শিক্ষক ব্ল‌্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে। যা প্রাথমকিভাবে ঐ শিক্ষক আমাদের কছে স্বীকার করেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া স্কুল বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি খবর পেয়েছি ঐ শিক্ষক মেয়েকে ব্ল‌্যাক মেইলিং করে মেয়ের মাকেও ঐ শিক্ষক ধর্ষণ করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, এ এলাকার আরেকটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের জুয়েল রানা নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেন। এ ব্যাপারে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ