শনিবার ২৫ মে, ২০১৯

ব্যবসায়ী সেলিমের লাশের উপর রাতের পর রাত ঘুমিয়েছে ফয়সাল

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

বামে নিহত ব‌্যবসায়ী সেলিম ডানে গ্রেফতারকৃত ফয়সাল

বামে নিহত ব‌্যবসায়ী সেলিম ডানে গ্রেফতারকৃত ফয়সাল

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সেলিম চৌধুরীকে পাওনা দুই লাখ টাকা আত্মসাতের জন্যই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যা করে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়া হয় লাশ। লাশ মাটি চাপা দেওয়া ওই স্থানেই চৌকি পেতে রাত্রিযাপন করেছে ঘাতক ফয়সাল।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কাউসার আলমের আদালতে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত ফয়সাল।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জবানবন্দি গ্রহন শেষে ফয়সালকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ মামলার অন্য দুই আসামি মোহাম্মদ আলী ও সোলায়মানকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মামুন আল আবেদ জানান, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর কর্মচারি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোহাম্মদ আলীর কাছে ব্যবসায়ীক দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল নিহত সেলিম চৌধুরী। পাওনা দুই লাখ টাকার জন্য মোহাম্মদ আলীকে চাপ দিলে পাওনাদার ব্যবসায়ী সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩১ মার্চ বিকেলে সেলিম তাদের ভোলাইলের ঝুটের গোডাউনে গেলে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ফয়সাল। এতে মাটিতে পড়ে গেলে আরো কয়েকটি আঘাত করা হয়। এরপর ফয়সাল সেলিমের হাত পা বেধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটি খুড়ে চাপা দেয়। এ সময় মোহাম্মদ আলী ও তার অন্যান্য সহযোগিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো জানান, সেলিমকে যেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে সেখানে চৌকি রেখে ৯ দিন ফয়সাল ঘুমিয়েছে। ১০ দিনের দিন গত বুধবার (১০ এপ্রিল) মোবাইল ট্র্যাকিং করে সেলিমের নিখোঁজের সময়কার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। পরে ভোলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে (২৮) আটক করা হয়। ফয়সালের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাটি খুঁড়ে সেলিম চৌধুরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কামরুজ্জামান সেলিমের বাড়ি ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকায়। সে মৃত সামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে। ব্যবসায়ীক সুবিধার্থে সে পরিবার নিয়ে একই থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ