বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২০

বেসামাল রূপগঞ্জের বাজার, চলছে প্রশাসনের অভিযান

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০, ২২:১৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হঠাৎ করেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ মূল্য বৃদ্ধি করেছেন। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের মধ্যে চরম আতংক সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্বিগুন দামেই ক্রয় করে বাড়িতে সঞ্চয় করছেন। এতে করে আরো মূল্য বৃদ্ধির আশংকা দেখা দিয়েছে। গত দুদিন যাবত উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে চলছে এমন কারসাজি। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে এমন অপপ্রচার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সকল শ্রেণীর লোকজন প্রয়োজনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিমান নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনতে শুরু করেছেন। আর সে সুযোগে রূপগঞ্জে প্রতিটি হাট-বাজারে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চাউলের বস্তা প্রতি ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা, পিয়াজের মুল্যে ২০ থেকে ৩০ টাকা, রসুন ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডাল চিনি লবন, তেল, ময়দা, হলুদ, মরিচ, মশলাসহ শুকনো খাবার থেকে শুরু করে সকল ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বেড়ে গেছে শিশু খাদ্য আর গবাদি পশুর খাবারের দাম। কাঁচা বাজারেও একই কান্ড। অপরদিকে মাছ মাংস আর ঔষধের দামও বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলার কোন ঔষধের দোকানে পাওয়া যাচ্ছেনা হ্যান্ড গ্লাভস, মাক্স আর জীবানু নাশক হেক্সিসল। দু‘একটি দোকানে মিললে দাম দুই তিন গুণ বেশি। একারনে শুক্রবার বাজারে কেনাকাটা করতে এসে হিমশিম খেয়েছেন নিন্ম ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারের লোকজন। আতংকের কারনে বাড়তি দামেই জিনিসপত্র কিনে বাড়িতে এনে মজুদ করছেন সাধারন মানুষ। এ কারনে দাম আরো বেশে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে।

কাঞ্চন বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সজিব মিয়া বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। যে টাকা উপার্জন করি সেটা দিয়ে কোন রকম পরিবার পরিজন দিয়ে দিনযাপন করি। কিন্তু আজ বাজারে এসে দেখি হঠাৎ করে চাল থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মুল্যে লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের মত নিন্ম আয়ের লোকজন করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর আগে না খেয়েই মারা যাবো।

কাঞ্চন বাজারের চাউল ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া জানান, গতকাল থেকে গাড়ী ভাড়া বেড়ে গেছে। এমনকি আমরা নাটোর থেকে যে চাউল ক্রয় করে নিয়ে আসি সেখানে চাউলের দাম বস্তা প্রতি ১ থেকে দেড়‘শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমাদের আগের তুলনায় একটু বেশী দামে চাউল বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারী মুদিমনোহরী ব্যবসায়ী জহিরুল বলেন, আমাদের পাইকারী দরে পেয়াজ, রসুন ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশী দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই আমাদের বেশী দামে এসব পন্য সামগ্রী বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়েনি। এক মানুষ অতিরিক্ত কেনাকাটা শুরু করেছে বলে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী এসব কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার থেকে আমাদের পৌরসভা পৌরাঞ্চলের প্রতিটি বাজার মনিটর করবে। যারা অতিরিক্ত দামে মালামাল বিক্রি করবে। তাদেরকে আমরা প্রশাসনের মাধ্যেমে ব্যবস্থা নিবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাম বেগম বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রী কোনভাবে চড়াও দামে বিক্রি করা যাবে না। পন্য সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে আমরা বাজারে বাজরে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা পন্য সামগ্রী বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে এসমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তাঁতবাজারে ৭টি মুদি মনোহরী ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ১টি রেস্টুরেন্টকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যেমে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। শুক্রবার রূপসী বাসষ্ট্যান্ডে আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমান করেছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা রাখতে হবে এবং কোনো ক্রেতাকে অতিরিক্ত পণ্য দেওয়া যাবে না। কেনাকাটা শেষে বাজার থেকে ক্রেতাদের দ্রুত চলে যাওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ