বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বেপরোয়া সন্ত্রাসী মীরু বাহিনীর লাগাম টানবে কে?

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার ত্রাস মীরু বাহিনী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুর লোকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী। মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযুক্তরা হলেন- ফতুল্লার পাগলা বউবাজার বটতলা এলাকার ফজল করিমের ছেলে মো. রহমান, দিদার মিয়ার ছেলে আবির, আনসার আলী খানের ছেলে বশির, আসু সিকদারের ছেলে ভিপি রাজিব, আরিফ, মৃত রবিউলের ছেলে হাবুল্লা, রাজ্জাকের ছেলে রাজু, হাকিমের ছেলে সজিবসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জন।

অভিযুক্তদের সকলেই কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু বাহিনীর সদস্য। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রসূলপুর নিউ মডেল স্কুল সংলগ্ন মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শান্ত তার অভিযোগে এমনটাই দাবি করেছেন।

সন্ত্রাসী মীর হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে থানায়। এছাড়াও রয়েছে ডজনেরও বেশি অভিযোগ। এদিকে অনেক ঘটনায়ই রয়েছে মীরু ও তার বাহিনীর ভয়ে থানা পর্যন্ত অভিযোগ করতে সাহস পায় না ভুক্তভোগীরা। বিভিন্ন সময় থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ হলেই কিছুদিন বন্ধ থাকে মীরু বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। কিন্তু কিছুদিন বাদেই আবারও শুরু হয় তাদের ত্রাসের রাজত্ব। গত কয়েকদিন আগে চাঁদ শিকদার সেলিম নামে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করে মীর হোসেন মীরু ও তার বাহিনী। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়ে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল মীরু বাহিনী। তারা আবারও সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছে। নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকলেও প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় ছাড় পেয়ে যায় মীরু ও তার বাহিনী। পরিপ্রেক্ষিতে এই বাহিনীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী শান্ত।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী শান্ত জানান, বুধবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। মারধর করা লোকজন সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু বাহিনীর সদস্য।

নির্যাতনের শিকার শান্ত বলেন, তারা আমাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তবে এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনাই জানতাম না। পরে যখন জানছি তখন শুনলাম অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সাথে আগেরই ঝামেলা ছিল। অভিযুক্ত কারোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। ওরা আমার লোক না। একটা লোকও আমার পরিচয় দিতে পারবে না।’

এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার এসআই শুভ আহমেদ বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ