সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯

বৃষ্টিতে ভিজে সায়মাসহ সব ধর্ষণের শাস্তির দাবি নারী সংহতির

শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন জেলা নারী সংহতির নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা নারী সংহতির সম্পাদক পপি রাণী সরকারের সভাপতিত্বে চাষাড়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ইকরামুন্নেসা চম্পা, জেলা নারী সংহতির অর্থ সম্পাদক রিয়া আক্তার, ধর্ষণ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক ফারহানা মানিক প্রমুখ।

তরিকুল সুজন বলেন, শুধু সায়মা নয়, সায়মার মত শত শত শিশু, কিশোরী ও নারীর সাথে এমন ঘটনা ঘটছে। ধর্ষকদের আমরা পশু, অমানুষ ইত্যাদি বলে তাদেরকে সমাজের এক প্রকার দায় থেকে তাদের মুক্তি দিয়ে দিচ্ছি। জানুয়ারি-জুন গত ৬ মাসে ২০৮৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তার কোনটিরই সরকার সুষ্ঠু বিচার করেনি। কারণ, এই সরকারের নৈতিকতা বলতে কিছু নেই। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বলেই পুরুষ ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। দেশের এই অনিরাপদ অবস্থাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং এ থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া এই দুঃশাসন থেকে বের হওয়ার আর কোনো পথ নেই।

ইকরামুন্নেসা চম্পা বলেন, আজ এই বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা দাঁড়িয়েছি ধর্ষণের প্রতিবাদে। আবহাওয়ার বৈরিতা প্রতিবন্ধকতা আমাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। কারণ সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। খবরের কাগজে একের প্রর এক ধর্ষণের খবর আসছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। যারা এর বাইরে তারাও ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত। একজন রং মিস্ত্রী, বাসের চালক, শিক্ষক ধর্ষণ করছে। যারা নিপীড়ন-ধর্ষণ করে, তারা মনে করে দেশে কোনো বিচার নাই। তার কোনো শাস্তি হবে না। সমাজ নারীদের পুরুষের সামনে ভোগ্যগণ্য হিসেবে হাজির করেছে। এ কারণে একজন নিপীড়ক পুরুষ মনে করে সে যা খুশি তা ই করতে প্রারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এমন অবস্থায় এসেছে, কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে, সত্য কথা বললে, মানুষকে সাহায্য করতে গেলে শাস্তি পেতে হয়। মৃত্যু, এমনকি দেশও ছাড়তে হতে পারে। এমতাবস্থায়, আমাদের সুবর্ণচরের সেই সাহসী নারী, ফেনীর নুসরাত থেকে সাহস নিতে হবে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে।

পপি রাণী সরকার বলেন, সম্প্রতি ঢাকার ওয়ারীতে ধর্ষণের পর নৃশংষ ভাবে খুন করা হয়েছে ৭ বছরের শিশু সায়মাকে। মোহাম্মদপ্রুর কলেজের শিক্ষক ধর্ষণ করেছে কলেজের এক নারী শিক্ষার্থীকে। নারায়ণগঞ্জের এক স্কুলে শিক্ষক ২০ জনকে ধর্ষণ করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষক ১২ জনকে এরপর নেত্রকোনায় শিশু-নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক নারী-শিশুর ওপর নৃশংস নিপীড়ণ-ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন চলছেই। প্ররিস্থিতি এমন প্রর্যায়ে প্রৌঁছেছে আমরা কেউ জানি না এরপ্রর কে? কোথায় ধর্ষিত বা খুন হবো? আমরা কেউ আজ নিরাপদ নই। না ঘরে,না বাইরে না বাসে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ঐক্য ছাড়া কোন পথ খোলা নাই। নারী-শিশুর জন্য, সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং মর্যাদা সম্পন্ন সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ