সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

বিসিকে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নারী শ্রমিক নিহত

বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের সময় পুলিশের আঘাতে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোশাক শ্রমিকরা এ অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনার বিচার দাবী করছেন। তবে পুলিশ বলছে, ভয়ে ও আতংকে হুড়োহুড়ির সময় পদদলিত হয়ে অথবা হার্ট এ্যাটাকে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা এগারোটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ভোলাইল এলাকায় অবিস্থিত এন আর গ্রুপের শ্রমিকরা সকাল দশটায় কর্মবিরতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ২০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও সর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। সংঘর্ষের কারনে বেরা এগারোটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত একঘন্টা নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কারখানা মালিকদের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের দাবী পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়। দুপুর একটায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের সাথে সংর্ঘষ চলাকালে গুলেনুর বেগম গুলি নামে এন আর গ্রুপে কর্মরত এক নারী শ্রমিক পুলিশের আঘাতে আহত হন। পরে সহযোগি শ্রমিকরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। পরে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালের নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের নিক্ষিপ্ত টিয়ার সেলের গ্যাস ও লাঠির আঘাতে গুলি বেগম মারা গেছে। তারা এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে শহরের খানপুর তিনশ’ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাহমিনা নাজনীনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তবে শিল্প পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জ জোনের পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত করার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবেল করছিলো। কিন্তু শ্রমিকরা এন আর গার্মেন্টেসের ভেতরে ঢুকে স্টাফ রুম, কাম্পিউটার,সহবিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুৃর শুরু করে এবং গেইট লাগিয়ে পুলিশ ঢুকতে বাধা দেয়। তারা পুলিশের উপর ইটপাটকলে নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় অনেক শ্রমিক দৌড়ে বের হতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখা যায়।

নারী শ্রমিক নিহত হওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে মানুষ যেমন পদদলিত হয়, ঠিক একইভাবে এখানে অনেক মানুষকে পড়ে যেতে দেখা গেছে। গোলেনূর গুলি নামে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যু সেভাবেই হয়ে তাকতে পারে। হাসপাতালের ডাক্তারও বলেছে হার্ট এ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে পেলেই মৃুত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইট পাটকেলে পুলিশের ১০ সদস্যসহ অর্ধশত লোক আহত হয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ