বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

বিদায়ী সদর ইউএনও’র ক্ষোভের মিশেলে আবেগঘন স্ট্যাটাস

শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বিনা বদলি হয়ে গেছেন৷ তার স্থলে আসছেন নাহিদা বারিক। এর আগে তিনি ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড হিসেবে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ গত ৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

এদিকে বদলি হওয়া সদর ইউএনও হোসনে আরা বিনা ইউএনও’র এই রদবদলে জেলা প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন৷ শুধু তাই নয়, সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার জন্যও ওই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন সদ্য বদলি হওয়া সদর ইউএনও৷ শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ এ্যাকাউন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস তিনি পোস্ট করেছেন৷

ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো, আমি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সাধারণত ফেসবুকে খুব একটা শেয়ার করি না। তবে আজ মনে হল এখন চুপ করে থাকাটাও অন্যায়। তাই আজ আর না, আজ আমি বলবো…

আমি হোসনে আরা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণগঞ্জ সদর, মাত্র ৯ মাস পূর্বে আমি এ পদে যোগদান করি। আমার দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চেষ্টা চিকিৎসার পরও আমরা কোন সন্তান লাভ করতে পারিনি। কিন্তু পাঁচ মাস পূর্বে আমি জানতে পারি, আমি দুমাসের সন্তানসম্ভবা। এ ঘটনা আমার জীবনে সৃষ্টিকর্তার অপার রহমত ছাড়া আর কিছুই নয় এ বিশ্বাস আমি প্রতিনিয়ত বুকে ধারন করেছি। এ বিশ্বাস ও স্বপ্ন বুকে নিয়ে অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম। উল্লেখ্য, আমি আমার বাবুকে পেটে নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি নারায়ণগঞ্জ ৪ ও নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের আংশিক নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করি। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে অজুহাত, ফাঁকিবাজী এই বিষয়গুলোকে কখনই পুজি করিনি। যখন যে পদে কাজ করেছি চেষ্টা করেছি শতভাগ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে। সন্তানসম্ভবা হয়েও এর কোন ব্যতিক্রম আমি করিনি।

অথচ আমি সন্তানসম্ভবা হয়েছি শোনার পর থেকেই একজন বিশেষ কর্মকর্তা, যার নাম বলতেও আমার রুচি হচ্ছে না, বিভিন্ন মহলে আমাকে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলীর পায়তারা করেই চলেছিল। আমার সন্তানসম্ভবা হওয়াটাকেই সে বিভিন্ন মহলে আমার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ এই সন্তান পেটে নিয়েই আমি অত্যন্ত সফলভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কতৃক এপ্রিসিয়েশনও পেয়েছি। আমার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল এপ্রিলের ২০ তারিখ, তেমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আমি ছিলাম।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ বিকালে রেগুলার চেকাপ করতে আমি হাজবেন্ডসহ স্কয়ার হাসপাতালে আসি৷ চেকআপ শেষে সন্ধ্যায় আমার হাসপাতালে অপেক্ষা করছি পরবর্তী পরীক্ষার জন্য৷ এমন সময় আমার একজন ব্যাচমেট ফোন করে জানায়, আমার সদাশয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ওএসডি করেছে অর্থাৎ আমাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে। আমার অপরাধ হলো, আমি সন্তানসম্ভবা, আর তার চেয়েও বড় কারণ হল সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির।

খবরটা শোনার পর আমি প্রচন্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে পারিনি৷ উল্লেখ্য, আমি এ্যাজমার রোগী। প্রচন্ড মানসিকচাপে আমার ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে আমার পেটের সন্তানের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় এবং হঠাৎ করেই আমার পেটের বাবু নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ড্ক্টর সেদিন রাতেই সিজার করে বাবু বের করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়৷ পরে আমার পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে পরদিন সকালে আমার মাত্র ৩১ সপ্তাহ বয়সি প্রিমেচিউর বেবিকে সিজার করে বের করে ফেলা হয়। এখন সে স্কয়ার হাসপাতালের NICU তে বেচে থাকার জন্য প্রানপন যুদ্ধ করে যাচ্ছে!

স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে সদর ইউএনও প্রশ্ন করে বলেন, আমার এই নিষ্পাপ সন্তানটার কি অপরাধ ছিল? নাকি মা হতে চাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল, আমি জানিনা! তবে জানি একজন সব দেখেন তিনি আমার নিষ্পাপ মাসুম সন্তানের উপর এই জুলুমের বিচার করবেন। এই নিষ্ঠুর অমানবিকতার পৃথিবীতে কোন কর্তাব্যক্তিদের কাছে আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই না, শুধু আমার সৃষ্টিকর্তা কে বলবো তুমি এর বিচার করো! আর যারা আমাকে একটুও ভালোবাসেন আমার নিষ্পাপ সন্তানটার জন্য দোয়া করবেন, ও সুস্থ হয়ে গেলে কোন কষ্টের কথাই আমার মনে থাকবে না।

ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10210481509594232&id=1839536860

সব খবর
সোশাল মিডিয়া বিভাগের সর্বশেষ