শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বিআইডব্লিউটিসির দখল থেকে উদ্ধার জমি স্কুলকে দিলো জেলা প্রশাসন

বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সরকারি স্কুলের জন্য বরাদ্দ জমি দখল করতে গিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের বাধার মুখে পড়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে এতদিন জমিটি দখলে রেখেছিলেন বিআইডব্লিউটিসি’র শ্রমিক ইউনিয়ন। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, ক্ষমতার বলে জায়গাটি দখলে নিচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল দশটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজার নেতৃত্বে শহরের ডনচেম্বার এলাকায় কালেক্টরেট পাবলিক স্কুলের পাশ্ববর্তী ওই জমিটি (১৪ কাঠা) দখল নিতে যায় জেলা প্রশাসন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান বিন আলী, কা‌লেক্ট‌রেট পাব‌লিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিসি’র ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালমা শিরীন চৌধুরী।

এ সময় বিআইডব্লিউটিসির শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টারের নেতৃত্বে শ্রমিকরা এসে সরকারি কর্মকর্তাদের বাধা দেয় এবং তর্কে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষ। এ সময় শ্রমিক নেতারা সরকারি কর্মকর্তাদের অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতিতে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা বলেন, জায়গাটির সাথে বিআইডব্লিউটিসি’র জায়গাটির কোন সম্পর্ক নেই। তাদের জমির কাগজ দেখাতে বললেও তার অসমর্থ হয়। তাদের কোন কাগজ নেই। এখানে মাদকের আসর বসতো। তাই জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কা‌লেক্ট‌রেট পাব‌লিক স্কুলের বর্ধিত ভবনের জন্য জমিটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

জমিটিতে বিআইডব্লিটিসির সাইনবোর্ড লাগিয়ে মাদকের আসর বসানো হতো অভিযোগ করে কালেক্টরেট পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার বলেন, এখানে কোনো লোক বসবাস করে না। মাদকাসক্ত লোক আসা যাওয়া করে। স্কুলের আসবাবপত্র চুরি হয়। সেই সাথে এই স্কুলটা বর্ধিত করা প্রয়োজন। তাই ডিসি স্যার বরাবর জায়গার আবেদন করি। তখন পাশের জমিটির কথা জানানো হয়। বলা হয়, এখানে কেউ থাকে না। মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা এখানে। স্কুলের বাচ্চারাও এসব দেখে নানা প্রশ্ন করে তখন আমরাও বিব্রত হই। তা ছাড়া এখানকার সব শিক্ষক নারী। তারা আমাদের নানা ভাবেই সমস্যা করে। পরবর্তী বিষয়টি বোঝানোর পর এই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মহসীন ভূইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ১৪ কাঠার এই জায়গাটি বিআইডব্লিউসির নামে বরাদ্দ করেছিলেন। সেই থেকে বিআইডব্লিউসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশ্রামাগার হিসেবে জায়গাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু দিন আগেও ১১ লাখ টাকা খরচ করে জায়গাটির চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে শ্রমিকদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে পুলিশসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের বিশ্রামাগারটি সিলগালা করে দেয়। বিনা নোটিশে সন্ত্রাসী কায়দায় জেলা প্রশাসনের জবরদখলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ