বুধবার ২৪ জুলাই, ২০১৯

বাড়ি ফিরলেন সেই বৃদ্ধ

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ২১:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: অবশেষে স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে বেওয়ারিশ হিসেবে ভর্তি থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত সেই বৃদ্ধের। দুর্গা মুন্ডা নামে ওই বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১২ জুন শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে ভর্তি করায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজসেবা বিভাগের একজন মাঠকর্মী। এ বিষয়ে প্রেস নারায়ণগঞ্জে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সদস্যরা লোকটির খোঁজে তৎপর হয়। তাদেরই তৎপরতায় পরিচয় ও স্বজনদের খোঁজ মেলে দুর্গা মুন্ডার।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকেলে দুর্গা মুন্ডার ছেলে অভিনাথ মুন্ডা ও চাচাতো ভাই নন্দ উড়াং তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে বাড়ি নিয়ে যান। দুর্গা মুন্ডা সিলেট মৌলভীবাজার এলাপুর এলাকার মৃত হিরামন মুন্ডার ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুর্গা মুন্ডা পেশায় একজন আনসার সদস্য ছিলেন। তারা সিলেটের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।

দুর্গা মুন্ডার ছেলে অভিনাথ মুন্ডা জানান, তার বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্থ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি প্রায়ই বাড়ি থেকে একা একা বের হয়ে যেতেন। তাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে খুঁজে নিয়ে আসা হতো।

অভিনাথ মুন্ডা বলেন, ‘গত ২৮ মে আমি যখন স্কুলে যাই তখন আশেপাশে কেউ নেই বলে একা একা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। বেশ কিছুদিন খোঁজাখুজির পর না পেয়ে শেষে থানায় জিডি করি।’

বিডি ক্লিন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী এসএম বিজয় বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে অনলাইন পোর্টালের একটি নিউজে লোকটিকে দেখি। এরপর বিডি ক্লিন এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় আমাদের সংগঠনের সদস্যদের খোঁজ নিতে বলি। তখন বেশ কিছু জায়গা থেকে নিখোঁজ সংবাদ আসে। তবে বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো তার বাড়ি সিলেট হতে পারে। তাই মৌলভীবাজারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের তথ্যানুয়ায়ী আমি উক্ত এলাকার থানার এসআই আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে নিখোঁজ ব্যক্তির ছবি পাঠান। ছবি দেখেই তাকে চিনতে পারি এবং এসআই এর মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

গত ১২ জুন সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিবস্ত্র অবস্থায় দুর্গা মুন্ডাকে পরে থাকতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, সে মানসিক ভারসাম্যহীন। পরবর্তীতে স্মাইল নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য আমানুর রহমান ও সমাজসেবা মাঠকর্মী আফসানা আক্তার লোকটিকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করায়। এরপর থেকে তারা বৃদ্ধকে বিভিন্নভাবে সেবা ও সমাজকর্ম অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে আসছে। ওই দিন প্রেস নারায়ণগঞ্জ এ দুর্গা মুন্ডাকে কেন্দ্র করে ওদের ঠাঁই কোথায় নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ