বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:১০

অনলাইন ডেস্ক

পৃথিবীর খুব পুরনো একটি রহস্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। এটি ডেভিলস ট্রায়াঙ্গল নামেও পরিচিত। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য নিয়ে বহু মুখরোচক গল্প, কাহিনী রয়েছে। হলিউডে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য দুর্দান্ত মুভি। সবার কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মানেই একটি রহস্যময় জগৎ। সত্যিই কি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কোন রহস্য আছে? 

আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বকুলে একটি বিশেষ সাগর সীমানার নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ওই সীমানাকে ত্রিভুজ নামে আখ্যায়িত করা হয়। এখানে বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়। অনেকে মনে করেন ওই সকল নিখোঁজ হওয়ার কারণ কেবলই দুর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী হল অতিপ্রাকৃতিক কোন শক্তি। ওই এলাকায় জাহাজ ও বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যেমন সত্য তেমনি এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে যে, যেসব দুর্ঘটনার উপর ভিত্তি করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার অনেকাংশই ভুলে ভরা তথ্য। কিছু লেখক বিমান ও জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে মজাদার গল্প বানিয়েছেন আর বই বিক্রি কিংবা মুভি বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রচুর অর্থ। অথচ এসব নিখোঁজ কিংবা  দুর্ঘটনার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের দুর্ঘটনার কোনই পার্থক্য নেই।

যে সাগর সীমানার কথা বলা হচ্ছে তার উপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত বয়ে গেছে। এই তীব্র গতির স্রোতই অধিকাংশ দুর্ঘটনা কিংবা নিখোঁজ হওয়ার কারণ। এখানকার আবহাওয়া এমন যে হঠাৎ করেই ঝড় ওঠে আবার থেমে যায়। বিংশ শতাব্দীতে টেলিযোগাযোগ, রাডার ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি পৌঁছানোর আগে এমন অঞ্চলে জাহাজডুবি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা ছিল। এই অঞ্চল বিশ্বের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী পথ গুলোর অন্যতম। এ অঞ্চলের আকাশপথে বিভিন্ন রুটে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিমান চলাচল করে।

অনেক জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে এর অধিকাংশই চালকের ভুলের কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। মানুষের ভুল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, আর এমন ভুলের কারণে দুর্ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলেও ঘটতে পারে। যেমন কোস্ট গার্ড ১৯৭২ সালে ভিএ ফগ এর নিখোঁজ হবার কারণ হিসেবে বেনজিন এর পরিত্যক্ত অংশ অপসারণের জন্য দক্ষ শ্রমিকের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নিখোঁজ ঘটনার উপসংহারেই পৌঁছানো যায়নি, কারণ অনুসন্ধানের জন্য তাদের কোন ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেসব ধ্বংসাবশেষ পেলে হয়তো দেখা যেত এসবই স্বাভাবিক দুর্ঘটনা।

কম্পাসের পাঠ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেকাংশে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কাহিনীর সাথে জড়িত। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে কম্পাস থেকে চুম্বক মেরুর দূরত্বের উপর ভিত্তি করে এর দিক নির্দেশনায় বিচ্যুতি আসে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র উইসকনসিন থেকে মেক্সিকোর উপসাগর পর্যন্ত সরলরেখা বরাবর চৌম্বক উত্তর মেরু সঠিকভাবে ভৌগোলিক উত্তর মেরু নির্দেশ করে। এই সাধারণ তথ্য যে কোন দক্ষ পথপ্রদর্শকের জানা থাকার কথা। কিন্তু সমস্যা হল সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে কিছুই জানে না। ওই ত্রিভুজ এলাকা জুড়ে কম্পাসের এমন বিচ্যুতি তাদের কাছে রহস্যময় মনে হয়। কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

গবেষণার কোনো শেষ নেই। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ১৯৭৮ সালেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যের জট খুলে গেলেও ‘পলিমোড প্রোগ্রাম’ এর অনুসন্ধানের কথা অজানা থাকার কারণে অনেকের কাছে এটি এখনও রহস্যময়। তবে আপাতত প্রচলিত কিছু ধারণা বা বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হলেও হয়তো আগামী দিনে রহস্যে ঘেরা বারমুডা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং বেরিয়ে আসবে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তি নির্ভর নানা তথ্য।

 

সব খবর