বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাবুরাইলে চার তলা ভবন ধ্বস, নিহত ১

রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

নিখোঁজ ওয়াজিদ

নিখোঁজ ওয়াজিদ

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দেওভোগের এক নম্বর বাবুরাইল এলাকায় চার তলা ভবন ধ্বসে পড়ে স্কুলছাত্রসহ তিনজনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷ এ ঘটনায় আরও এক স্কুলছাত্র ভবনের ভেতরে নিখোঁজ রয়েছে৷ তাকে উদ্ধারে কাজ করছে দমকল বাহিনীর সদস্যরা৷

রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেল সোয়া চারটায় বাবুরাইলের মুন্সিবাড়ি এলাকার এইচএম ম্যানশন নামে ভবনটি ধ্বসে পড়ে৷ এই সময় শোয়েব (১২) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে৷ তার বাবা মৃত শাহাবুদ্দিন৷ সে বাবুরাইল বেপাড়ীপাড়া এলাকার সানরাইজ স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল বলে জানা গেছে৷

এদিকে নিখোঁজ রয়েছে ওয়াজিদ (১২) নামে এক শিশু৷ সে এই এলাকার রুবেলের ছেলে৷ সেও সানরাইজ স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র৷

শোয়েব ও ওয়াজিদ খালাতো ভাই৷ তারা ওই ভবনের নিচ তলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল৷ সনিয়া নামে এক নারী আরবি পড়াতে আসতো৷ ভবন ধ্বসে পড়লে অন্যরা বেরিয়ে আসলেও আটকে পড়ে শোয়েব ও ওয়াজিদ৷ শোয়েবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন৷ তবে নিখোঁজ রয়েছে ওয়াজিদ৷

নিখোঁজ ওয়াজিদের পিতা রুবেল বলেন, আরবি পড়তে গেছিলো৷ সবাই বের হয়ে আসলেও আমার ছেলে আটকে পড়েছে৷ আমার ছেলে যেন উদ্ধার হয় এই প্রার্থনা করছি৷

এদিকে ছেলের শোকে আহাজারি করছে ওয়াজিদের মা৷ দুই সন্তানের বড় ছেলে ওয়াজিদ৷

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বউবাজার এলাকার বাসিন্দা আরবি শিক্ষক সনিয়া (২২) ও বাড়ির মালিকের বোনের ছেলে অনিক (১৯)৷ অনিক তিন তলায় ঘুমাচ্ছিল বলে জানা গেছে৷

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আছরের আযানের পরপরই ঘটে এ ঘটনা৷ বাড়ির মালিক মালয়েশিয়া প্রবাসী আজহারউদ্দিন৷ তার বোন শিউলী আক্তার বাড়িটি দেখাশোনা করতেন৷ এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ভবনের ভেতর থেকে ৪ জনকে উদ্ধার করা হয়৷ তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শোয়েবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ এখনও ভবনের ভেতরে রয়েছে ওয়াজিদ নামে এক শিশু৷ তাকে উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ দমকল বাহিনী কাজ করছে৷

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, ব়্যাব-১১ এর অধিনায়ক কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, নাসিকের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিকসহ ব়্যাব-পুলিশের বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হন৷

এ সময় জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ধ্বসে যাওয়া ভবনটি একটি খাল পাড়ে অবস্থিত ও পুরনো। ফলে ভবনটি হেলে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও দুইজনকে হাসপাতালে পাঠানো হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা ফিরে আসেন। একজন নারী জানিয়েছেন তার বাচ্চা এখনো রয়ে গেছে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা ধৈর্য সহকারে এই উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। কিভাবে, কেন এই ভবন ধ্বস হলো। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানিয়েছি, আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় যে মারা গেছে এই মুহূর্তে তার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে। কেন কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ ঘটনা তো আরো ঘটতে পারে। আরো একটি ভবন কিছুটা হেলে আছে। যারা ঘর বাড়ি তৈরি করছে তারা এবং আমরা যারা এ বিষয়গুলো দেখভাল করি তারাও যেন সচেতন হই।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ