বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯

বাদী বলছে ধর্ষণ, মামলা ধর্ষণ চেষ্টার

রবিবার, ১৭ মার্চ ২০১৯, ২০:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় সাত বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় হাসপাতালে মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় বিশ বছর বয়সী সুমনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পরে মামলার এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বয়সও দুই বছর কমিয়ে ১৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ ও মামলার এ পরিবর্তন বাদীকে না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাদীর।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের আরএমও আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীর মা ওইদিন রাতেই ফতুল্লা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। তবে মামলা গ্রহণ করা হয় দুই দিন পর শুক্রবার।

মামলার বাদীর অভিযোগ, ধর্ষণের অভিযোগ করার পরও মামলায় ধর্ষণ চেষ্টা উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিপক্ষের কাছ থেকে সুবিধাভোগ করে আসামিকে বাচানোর জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার পাবার বিষয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাদীর পরিবার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শুভ আহমেদ প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শিশুটি বলছে ধর্ষণের কিছুই হয়নি। তাই ধর্ষণ চেষ্টা মামলা নেয়া হয়েছে।

এদিকে শিশুটির ভাইয়ের অভিযোগ, এই ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশ তাদের অসহযোগিতা করে আসছেন। ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তার আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু তদন্তকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে কোন কর্ণপাত করেনি। পরে নিজ উদ্যোগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় আসামিকে আটক করে তারা। পরে আসামিকে ফতুল্লা থানায় স্থানান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগীর ভাই বলেন, মামলায় যে ধর্ষণের চেষ্টা উল্লেখ করা হয়েছে তাও জানানো হয়নি তাদের। আজ রোববার থানা থেকে এজাহার সংগ্রহ করে জানতে পারেন, মামলায় ধর্ষণ চেষ্টা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই শুভ বলেন, আমি এজাহার পরিবর্তন করিনি। তারা যা বলেছেন তাই লেখা হয়েছে মামলায়।

‘এজাহারে ধর্ষণ চেষ্টা উল্লেখ করাতে আসামির জামিনের পথ সহজ হয়েছে’ উল্লেখ করে জেলা আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাকিবউদ্দিন আহমেদ প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বাদী যা বলবে তাই মামলায় উল্লেখ করতে হবে। ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলে মামলায় ধর্ষণ চেষ্টা উল্লেখ করা যাবে না। বয়স কমিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা উল্লেখ করাতে আসামির জামিন পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

তবে এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. মঞ্জুর কাদের বলেন, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাই আসল ঘটনা বলতে পারবেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ